নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা: মুর্শিদাবাদের সামসেগঞ্জে রবিবার সকালে বিড়ি বাঁধছিলেন বেশ কিছু মুসলিম নারী।কাজ করতে করতে একজন আরেকজনকে বলছেন, এই সরকার ইসলামের কী বোঝে? যা ইচ্ছে তাই করছে। মানুষ কি ধর্ম পালন করতেও পারবে না?’
শুধু ওই হোটেল নয়, লোক সভায় তাৎক্ষণিক তিন তালাক বিল পাশের পর সারা বাংলার মুসলিম মেয়েরা বিলের কঠোর সমালোচনা করে বলছেন,’এই বিল আমরা চাইনা।’


মুর্শিদাবাদের ডোমকলের গরিবপুরের রুনা লায়লা  উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন।শনিবার সন্ধ্যার রুটি তৈরি করতে করতে টিডিএন বাংলাকে  বলেন,”টিভিতে শোনার পর মনটা খারাপ হয়ে গেছে।তবে এইসব নিয়ে বেশি ভাবিনা।ইসলাম ছাড়া অন্য কোনও নিয়মের চিন্তা মাথায় আসেনা।কেননা, ইসলামের আইন আমার কাছে সেরা আইন মনে হয়েছে।”
এদিকে অনেক মুসলিম মহিলা বিলটি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন। উত্তর চব্বিশ পরগনার বসিরহাটের এক মেয়ে বললেন,”আমরা মূর্খ মানুষ।বিলটিল বুঝবো কী করে?তবে যায় হোক ইসলামের যেন ক্ষতি না হয়।”
কল্যাণী ইউনিভার্সিটির ইতিহাস বিভাগের সেরার সেরা দিলরুবা খাতুন(ইভা) জানান,’এই সরকার যা ইচ্ছে তাই করছে।

তালাক নিয়ে কী বিল হবে তা আমরা ঠিক করবো। মোদী ঠিক করার কে?”
অন্যদিকে হাওড়ার ডাক্তার মনোয়ারা বিবি আন্দোলনের হুমকি দেন। তিনি বলেন,”মুসলিম পার্সোনাল’ল নিয়ে কোনও চক্রান্ত মানা হবেনা।আর মোদী সরকার দেশের কোটি কোটি মহিলাদের সমস্যা নিয়ে ভাবুক। ধর্ষণ, পণ, বধূ হত্যা, বৃদ্ধাশ্রম আজও ভারতে কেন? নারী নির্যাতন কবে বন্ধ হবে? মহিলা বিল আজও পাশ হচ্ছে না কেন?”

এদিকে ভাঙড়ের শিক্ষিকা সফিউন্নেসা বলছেন,”উদ্দেশ্য প্রনোদিত বিল। তাৎক্ষণিক তিন তালাক বিরোধী বিল পাশের নামে সংবিধান বিরোধী বিল পেশ হয়েছে। বহু অভিযোগ বিল নিয়ে। অবিলম্বে এই বিলের সংশোধন করতে হবে এবং তা মুসলিম মহিলা আন্দোলনের নেত্রীদের সাথে কথা বলে, মুসলিম পার্সোনাল’ল বোর্ডের সাথে কথা বলে।”

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ভাঙড়ের গৃহিনী নারগিস পারভীন বলেন,” মুসলিম পার্সোনাল’ল বোর্ডের মন্তব্যই আমাদের মন্তব্য। আমাদের সমাজের সমস্যা শিক্ষা, বেকারত্ব, অর্থনৈতিক দুর্দশা, এগুলো সমাধান না করে সরকার একটি তুচ্ছ ইস্যুকে নিয়ে হইচই করছে যা আমাদের সমাজের সমস্যাই নয়।”

নদিয়ার জিনাত রেহেনা থেকে কুচবিহারের আছিয়া-সকলেই বলছেন এই বিল মুসলিম মেয়েদের স্বার্থ বিরোধী।