নিজস্ব প্রতিনিধি, টিডিএন বাংলা, মালদা: মুরগি থেকে ছড়াতে পারে করোনা, এই গুজবের জেরে কার্যত ফাঁকা পড়ে রয়েছে জেলার পোল্ট্রি ফার্ম গুলি। হ্যাচারি থেকে বাচ্চা পৌঁছাচ্ছে না মুরগির ফার্ম পর্যন্ত। গ্রামবাসীদের বিরোধের কারণে কার্যত এই অবস্থা। আর সেই কারণে মাটিতে জ্যান্ত মুরগির বাচ্চা পুঁতে ফেলতে হচ্ছে হ্যাচারি কর্তৃপক্ষকে। প্রতিদিন ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ৩৯ লক্ষ টাকা। আর কয়েকদিন এরকম চললে জেলায় মুরগির ব্যবসা মুখ থুবড়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন হ্যাচারি কর্তৃপক্ষ। কেবলমাত্র মালদা নয় রাজ্যের বাজারেও আকাল দেখা দিবে মুরগির মাংসের এমনই আশঙ্কা।                        

গাজোলের ড্রিমল্যান্ড হ্যাচারি।এই হ্যাচারিতে প্রতিদিন প্রায় ১ লক্ষ ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদন করা হয়। সেই বাচ্চা পাঠানো হয় বিভিন্ন পোল্ট্রি ফার্মে এরপর সেগুলো বড় হওয়ার পর বাজারজাত করা হয়।কিন্তু গুজবের কারণে গ্রামে পোল্ট্রি ফার্ম গুলিতে বাচ্চা আনতে বাধা দিচ্ছেন গ্রামবাসীরা। সেই কারণে হ্যাচারিতে প্রতিদিন ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদন হলেও সেই বাচ্চা পৌঁছাচ্ছে না ফার্ম পর্যন্ত। ফলে এই বাচ্চাগুলো নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন হ্যাচারি কর্তৃপক্ষ। প্রতিদিন হাজার হাজার মুরগির বাচ্চা জ্যান্ত পুঁতে ফেলা হচ্ছে মাটির তলায়।

ড্রিমল্যান্ড হ্যাচারির ম্যানেজার অসীত দীগপতি বলেন, তাদের মেশিনে এখনো ২৬ লক্ষ ডিম রয়েছে। নিয়মিত সেই ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদন হচ্ছে। কিন্তু তা ফার্ম পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন তাদের প্রায় ৩৯ লক্ষ টাকা ক্ষতি হচ্ছে। এইভাবে চলতে থাকলে বন্ধ হয়ে যাবে হ্যাচারি। এদিকে ফার্মে মুরগি না আসায় সমস্যায় পড়েছেন মুরগি প্রতিপালকরাও।

যদিও সাধারণ মানুষের কাছে প্রচার এবং হ্যাচারি কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে থাকেন মুরগি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌড় চন্দ্র মন্ডল। কোনভাবেই যাতে জেলায় মুরগির আকাল না দেখা দেয় সেই ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।