টিডিএন বাংলা ডেস্ক: কেটে গেছে অনেক গুলো বছর। এখনও স্বামীর হত্যার ক্ষত শুকোয়নি। তাই এনআরএস হাসপাতালের নাম শুনলে এখনও শিউরে ওঠেন কোরপান শাহর স্ত্রী। তাঁর করুণ প্রশ্ন, জুনিয়র ডাক্তারদের যারা মেরেছে, তাদের শাস্তি হোক। কিন্তু আমার স্বামীকে যে জুনিয়র ডাক্তাররা মারলেন, তাঁদের কী হল? আরজিনার এই প্রশ্ন শুনলে এখনও শিউড়ে উঠতে হয়। এনআরএস মেডিক্যাল কলেজে জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনে সারা রাজ্য উত্তাল। এই হাসপাতালেই কোরপান শাহকে পিটিয়ে মারা হয়েছিল বলে অভিযোগ। মোবাইল চুরির অভিযোগে কোরপানকে বেধড়ক মারেন জুনিয়র ডাক্তাররা। তাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।

এআরএসের খবর তাঁক কানে এসেছে। কিন্তু স্বামীর মর্মান্তিক মৃত্যু তিনি কী করে ভুলবেন! বারবার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। রাগে ফেটে পড়ছেন। ২০১৪ সালের ১৭ নভেম্বর মারা যান কোরপান। তাঁর বাড়ি উলুবেড়িয়ায়। কোরপানের মৃত্যুর পর জুনিয়র ডাক্তারদের একাংশের বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় ওঠে। আরজিনা এখন পরিচারিকার কাজ করেন। বাড়ি থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে তিনি কাজে যান। সেই বাড়িতেই কাজ করতে গিয়ে এনআরএসের কথা কানে এসেছে। নাম শুনে চমকে ওঠেন তিনি। কারণ সেই স্মৃতি এখনও তাঁর বুকে দগদগে। সাহসে ভর করে জানতে চেয়েছিলেন কী হয়েছে। জুনিয়র ডাক্তাররা মার খেয়েছেন, তাঁরা আন্দোলন করছেন। আরজিনার প্রশ্ন, তাঁর স্বামীকে যাঁরা মারলেন তাঁদের কী হবে?

কোরপান মারা যাওয়ার পর আরজিনা মায়ের বাড়িতে থাকতেন। বলেন, স্বামীর সঙ্গে যে ঘরে থাকতাম, সেটা একটা সরকরি ঝুপড়ি, জল পড়ে সারানোর টাকা নেই। তাই মায়ের বাড়িতে থাকি। নিজের পাঁচ সন্তান। সঙ্গে মায়ের বাড়িতে আরও ২ দিদি, তাঁদের ছেলেমেয়ে। ঘুমন্ত শিশু দিকে তাকিয়ে চোখ ছলছল করে ওঠে আরজিনরা। বলেন, যখন স্বামী মারা যান, তখন এ আমার গর্ভে।

কথা বলতে বলতে রাগে ফেটে পড়েন ক্ষোভে। আমার স্বামীর খুনিদের বিচার চাই। আমার স্বামীকে যারা মেরেছেন, তাদের কাউকে চিনতে পারলে আমার স্বামীর মতো হাল করব। এখানেই শেষ না করে তিনি আরও বলেন, জুনিয়র ডাক্তারদের যারা মেরেছে, তাদের শাস্তি হোক, কি্ন্তু আমার স্বামীর মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদেরও কঠোর শাস্তি চাই।

কোরপানের মৃত্যুর পর অনেকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন। কিছু টাকা পেয়েছি। অনেকে সাহায্য করবে বলে বেপাত্তা। পাঁচ ছেলে মেয়েকে নিয়ে তাঁর সংসার চালাতে প্রাণান্ত অবস্থা। বড় ছেলে দর্জির কাজ করেন। বাকিদের পেট চালাতে পরিচারিকার কাজ করেন। তারপরেও সংসারের অভাব মেটে না। কোরপানের হত্যার শাস্তি চান তাঁর স্ত্রী। শাস্তি মিলবে? কালের নিয়মে সময় গড়িয়েছে। অনেক ঘটনাই ফিকে হয়ে যায়। এখন চিকিৎসকদের নিয়ে উত্তাল রাজ্য। বিচারপ্রার্থী এই অসহায় পরিবার।