নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা: একাত্তরে সময় যে ভারত এক কোটি বাঙালিকে জায়গা দিতে পারে, সেই ভারত ৪০ হাজার রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে পারবে না কেন? রবিবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে ‘ভারত বাংলাদেশ মৈত্রী’ সমিতির আয়োজিত রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে এই প্রশ্ন তোলেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট লেখক ও মানবাধিকার কর্মী শাহরিয়ার কবির। তাঁর মন্তব্য, “ভারতের কাছে আশ্রয় নেওয়া ৪০ হাজার রোহিঙ্গাকে জায়গা না দিলে তাঁরা কোথায় যাবে? মায়ানমারে গেলেতো খুন করে ফেলবে বা সমুদ্রে ডুবে মরবে। মানবিক কারণেই রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। হ্যাঁ, কিছু জঙ্গি থাকতে পারে। তাদের চিহ্নিত করুন। তাই বলে সকল রোহিঙ্গাকে জঙ্গি বলা ঠিক নয়।”


রোহিঙ্গা গণহত্যা পরিকল্পিত ভাবে হচ্ছে বলে মন্তব্য করে শাহরিয়ার বাবু বলেন, “বাংলাদেশে ১৯৭৮ সাল থেকে রোহিঙ্গাদের আগমন শুরু হয়েছে। রোহিঙ্গারা ভাষা ভিত্তিক জনগোষ্টি। বাংলাদেশে প্রায় ৫০০ হিন্দু রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। মায়ানমারের সেনা সরকার সেই আঠাত্তর সাল থেকে জাতিগত গণহত্যা শুরু করেছে। একটি জাতি গোষ্টিকে শেষ করতে যতগুলি পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয় সব হচ্ছে। খুন গন ধর্ষণ সব হচ্ছে। এটি একটা নীরব গণহত্যা যা দীর্ঘদিন ধরে চলছে।”
এদিন রোহিঙ্গাদের জঙ্গি তকমা দেওয়ার বিরোধীতা করে মি কবির বলেন, “যে ভারত বরাবরই উদ্বাস্তুদের জায়গা দিয়েছে সেই ভারত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে পারবে না তা আশ্চর্যজনক। কিছু সন্ত্রাসী থাকতে পারে। দুই দেশ মিলে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমরা ভারতের মানবিক মুখ দেখতে চায়। যদি রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান না করে এড়িয়ে যাওয়া যায় তবে জঙ্গি গোষ্ঠী গুলি সুযোগ পেয়ে যাবে। কোনও মতে মৌলবাদী শক্তিকে জায়গা দেওয়া যাবেনা।”

কিছুদিনের মধ্যে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে জেনেভাতে সম্মেলন করে মায়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হবে বলে উল্লেখ করে শাহরিয়ার কবির বলেন, “মায়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে যাবে বাংলাদেশ। আমরা মানবতা বিরোধী কাজের জন্য বিচার করেছি দেশে, মায়ানমারের সেনাবাহিনীর গণহত্যার বিচারের দাবি তোলা হবে আন্তর্জাতিক স্তরে।”


এদিন বাংলাদেশের উপরাষ্ট্র দূত তৌফিক হাসান রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের জন্য ভারতের সহযোগিতা চান। তিনি তাঁর লিখিত বক্তব্যে বলেন, “রোহিঙ্গারা আজ বাংলাদেশের সমস্যা, কাল ভারতের সমস্যা পরশু সবার সমস্যা হবে।” বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সুসম্পর্কের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে শেখ হাসিনার প্রসংসা করেন।
ভারত বাংলাদেশ মৈত্রী সমিতির সভায় রোহিঙ্গা সংকট ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন দক্ষিন এশিয়ার আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জয়ন্ত রায়, প্রাক্তন সাংসদ দেবপ্রসাদ রায়, অধ্যাপক বিমল শঙ্কর নন্দ প্রমুখ। প্রায় সকল বক্তা মানবিক দিক দিয়ে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের কথা বলেন। অধ্যাপক বিমল শঙ্কর নন্দ বলেন, “ভারত বাংলাদেশ ও মায়ানমারকে যৌথ ভাবে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। এখানে চিন বা কাউকে রাখলে হবেনা।”