নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা: বিভেদকামীরা অশান্তি পাকায়, অপরদিকে চিরকাল শান্তিকামীরা শান্তির বার্তা দেয়। বাংলা সহ ভারতের। সম্প্রীতির বাতাসকে বিষিয়ে দিতে এক শ্রেণীর লোক যখন তৎপর তখন হিন্দু মুসলিম বন্ধুত্বের ডাক দিয়ে ইফতারের আয়োজন করলো ‘প্রতিবেশীকে জানুন’ নামে একটি সংগঠন। রবিবার খিদিপুরের একটি হলে বাংলার নাগরিক সমাজের একাংশ এই অনুষ্ঠানে এসেছিলেন। ইফতার হলেও একে অপরকে জানার জন্যই ২০১৬ সাল থেকে এই আয়োজন করা হয়।

আসলে দীর্ঘদিন ধরে পাশাপাশি বসবাস করেও হিন্দু ও মুসলিম একে অপরকে জানেনা বা জানার চেষ্টা করেনি। ভুল বোঝাবুঝির ফলে তৈরি হয়েছে দুরত্ব।অথচ দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য একে অপরকে জানা ও এক সাথে চলা খুব দরকার। আর এই কাজটাই করতে এগিয়ে এসেছে শহরের বেশ কিছু মানুষের উদ্যোগে তৈরি ‘প্রতিবেশীকে জানুন’ সংগঠন। ওই ইফতার অনুষ্ঠানে এসেছিলেন বিভিন্ন পেশার শতাধিক মানুষ। আইপিএস অফিসার হুমায়ুন কবির, আইএএস সুপর্ণা দেব,বাংলার বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী মৌসুমী ভৌমিক, মাদ্রাসা ও সংখ্যালঘু দপ্তরের সচিব শাকিল আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের আয়োজকদের একজন সাবির আহমেদ বলেন,” মানুষ শান্তি চাই। যেকোন হিংসার মূলে আছে একে অপরকে না যান্স,একে অপরকে বন্ধু না মনে করার জন্য। আমরা মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে কাজ করছি। এই রমজানে আমরা আমাদের অমুসলিম বন্ধুদের ইফতারে ডাকছি যাতে একে অপরের মধ্যে আলোচনা করতে পারি।”
কিন্তু কেন হটাৎ এই ইফতার অনুষ্ঠান?তার জবাব,”বর্তমানে দেশ ও পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক শক্তি মাথা তুলছে। এই পরিস্থিতিতে সভ্য সমাজের উচিত মুসলিম ও অমুসলিম ভাই বোনদের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করার জন্য এগিয়ে আসা।”
তবে ‘আপনার প্রতিবেশীকে জানুন’ সংস্থার ইফতার অনুষ্ঠানে এসে অনেকেই নিজেদের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিলে দূর যে আপন হয় তার প্রমাণ এই অনুষ্ঠান। আয়োজকরা জানিয়েছেন, শুধু ইফতার নয়,পূজার সম্পর্কে বা বিশিষ্ট ব্যাক্তিদের সম্পর্কে জানানোর জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হয়।