টিডিএন বাংলা ডেস্ক: সংরক্ষণের আওতাভুক্ত চাকুরী প্রার্থীদের বারবার কেন তাদের জাতিগত শংসাপত্র দেখাতে হবে, তা জানতে চেয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকার এক নির্দেশিকায় বলেছে, একবার ওবিসি সার্টিফিকেট দেখালেই চলবে না, এই সংরক্ষণের সুবিধা পেতে গেলে বারবার তার প্রমাণ দেখাতে হবে এবং তা নিতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তাদের কাছ থেকে। ফলে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া সত্বেও কলেজে নিয়োগ পাচ্ছেন না প্রার্থী। এই বিষয়ে এক মামলায় হাইকোর্ট প্রশ্ন তুলে বলেছে, এই সার্টিফিকেট বারবার সংগ্রহ করার যে নির্দেশিকা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে জারি করা হয়েছে তা কতটা যুক্তিযুক্ত সেটা জানাতে হবে হাইকোর্টকে। এছাড়াও আদালতের বক্তব্য, সার্টিফিকেট জোগাড় করার ক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীদের যে পরিমাণ হয়রানি হতে হবে তার দায় কে নেবে?

গত ২০১৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ কলেজ সার্ভিস কমিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসার নিয়োগের একটি পরীক্ষা নেয়। জনৈক সালেয়া বেগম সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্যানেলের নথিভুক্ত হন। সেই প্রার্থীদের এরপর হয় কাউন্সেলিং। এই বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালের ১৩ জুলাই কাউন্সিলিংয়ে হাজির হন তিনি। সেখানে তাকে বলা হয়েছে ফের একবার আপডেটেড ওবিসি সার্টিফিকেট দাখিল করতে হবে। প্রার্থীর বক্তব্য, তিনি সিলেকশন কমিটির কাছে আগেই সার্টিফিকেট জমা দিয়েছেন, তাই ফের এই শংসাপত্র দাখিল অর্থহীন ও অযৌক্তিক। তাছাড়া হঠাৎ করে এই সার্টিফিকেট আনতে বললে, তার সময় পাওয়া মুশকিল, হয়রানিও বাড়ে এতে। এরপরেই তিনি মামলা দায়ের করেন কলকাতা হাইকোর্টে। তার হয়ে মামলায় সওয়াল করেন আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরী।

সরকারের নির্দেশিকায় বার্ষিক ৮ লক্ষ টাকা পারিবারিক আয়ের ভিত্তিতে জাতিগত শংসাপত্র দেওয়ার নতুন মান নির্দিষ্ট হয়েছে। পরিবারের আয় বছরে ৮ লক্ষ টাকার কম হলে তিনি পাবেন এই সার্টিফিকেট। আইনজীবীর বক্তব্য, কিন্তু তা একবার নিলেই চলবে না। বারবার নিতে হবে বলে বলা হচ্ছে। এই নিয়েই বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর সিঙ্গেল বেঞ্চ প্রশ্ন তুলেছেন। সালেহা বেগম জানিয়েছেন, তিনি ইন্টারভিউয়ের সময়ই সার্টিফিকেট দিয়েছেন। তা ইশ্যু করেছেন জেলাশাসক। তাহলে কাউন্সিলিংয়ের সময় তা ফের চাওয়া হচ্ছে কেন, আর তা আনতে গেলে সময় লাগবে বেশি। কাউন্সেলিংয়ের সময়ে বঙ্গবাসী কলেজ চেয়েছিল প্রার্থী। কলেজ সার্ভিস কমিশন তাকে বলেছে, সার্টিফিকেট না দিলে ওই ক্ষেত্রে অন্য কাউকে নিয়োগ করা হবে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে আদালতের প্রশ্ন, সরকারের এরকম ধরনের নির্দেশিকা জারি করার যৌক্তিকতা কি তা স্পষ্ট করতে হবে। এরপর বিচারপতি ঐ কলেজে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করে দেন। গত ৯ আগস্ট ছিল পরবর্তী শুনানি। কিন্তু তা না হওয়ায় এরপর নতুন করে মামলার শুনানির দিন স্থির হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী। (সৌজন্যে: ডেইলি দেশের কথা)