টিডিএন বাংলা ডেস্ক : সাল ২০১৬, ১৭ জানুয়ারি। হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ছাত্র রোহিত ভেমুলা আত্মহত্যা করেন। অসাম্য এবং চরম সামাজিক বঞ্চনার বিরুদ্ধে লাগাতার লড়াই করতে হচ্ছিল তাঁকে। অবশেষে বেছে নেন নির্মম পথ। রোহিত ভেমুলার মৃত্যুদিনে বৃহস্পতিবার তাঁকে স্মরণ করল বাম ও গণতান্ত্রিক যুব সংগঠন। কলেজ স্কোয়ার চত্বরে সামাজিক ন্যায় মঞ্চের রাজ্য কমিটির উদ্যোগে এদিন সন্ধ্যায় হয় মোমবাতি মিছিল।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয় মিছিল। বিধান সরণি হয়ে সূর্য সেন স্ট্রিট ধরে মিছিল শেষ হয় বিদ্যাসাগর মূর্তির সামনে। রোহিত ভেমুলার মৃত্যু, দলিত এবং আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে অসাম্যের বিরুদ্ধে লড়াই নিয়ে সেখানেই বক্তব্য রাখেন কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য ড. বাসুদেব বর্মণ,সামাজিক ন্যায় মঞ্চের রাজ্য কমিটির সভাপতি দেবেশ দাস,সাধারণ সম্পাদক অলকেশ দাস প্রমুখ। বাসুদেব বর্মণ বলেন, দেশের সংবিধানে দলিত ও পিছিয়ে পড়া ভারতীয় জনগণের উন্নয়ন এবং অধিকারের সুরক্ষা নিয়ে যেসব ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা আছে তা বারবার লঙ্ঘিত হচ্ছে। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের আমলে তা অবর্ণনীয়। বিজেপি যে রাজ্যে ক্ষমতাসীন সেখানেও এটাই স্থির চিত্র। আমাদের প্রতিবাদ এই অব্যবস্থার বিরুদ্ধে।’’ দেবেশ দাসের কথায়, দেশ-দুনিয়ার ইতিহাসে রোহিত ভেমুলাদের মৃত্যু হয় না। অধিকারের লড়াইকে তাঁরা প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করে যান।   রোহিত ভেমুলা এই দেশ এবং এ রাজ্যে প্রত্যেক বঞ্চিত মানুষের গণ আন্দোলনের প্রেরণা ও এগিয়ে চলার আলোকদ্যূতি। আমরা তাঁকে মনে রেখে আগামী দিনে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াইকে তীব্র করে তুলব’’,বলেন অলকেশ দাস।

২৬ বছরের লড়াকু দলিত যুবক রোহিত ভেমুলা বৈষম্যের অবসান চেয়েছিলেন। কিন্তু রাষ্ট্রশক্তি তাঁর উপর ক্রমাগত অত্যাচার চালিয়ে যেতে থাকে। অবশেষে আত্মহত্যারই সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এদিন দেশজুড়েই রোহিত ভেমুলার স্মরণে অনুষ্ঠান হয়েছে।