নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা: দেখতে দেখতে রমজান শেষ হতে যাচ্ছে। আর শেষ জুম্মাবারে তাই মসজিদ গুলিতে দেখা গেল উপচেপড়া ভিড়। কলকাতার টিপু সুলতান মসজিদ, নাখোদা মসজিদ,পার্ক সার্কাসের নূরী মসজিদ কিংবা মেটিআব্রুজের বটতলার মসজিদ, শহরের প্রায় প্রতিটি মসজিদে উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।

কলকাতার নাখোদা মসজিদের ইমাম মাওলানা শফিক কাসেমী বলেন,’এটা নতুন কিছু নয়। আখেরি জুম্মার প্রতিবাদ বেশি মুসল্লি হয়। এবারও হয়েছে। আসলে একমাস রোজা আর জুম্মার দিন আলাদা আবেগ,সব মিলিয়ে মানুষ মসজিদ মুখী হয়।’

জুম্মাবারে এমনিতে মানুষ বেশি হয়। তারপর রোজার শুক্রবার আরও বেশি। কিন্তু রমজানের শেষ জুমা হলে মানুষের বাঁধভাঙা ঢল দেখা যায়। এদিন মসজিদে মানুষের জায়গা হয়নি। বহু মুসল্লি রাস্তায়,দোকানে,গলিতে থেকে নামাজ পড়েছে।

তবে শুধু কলকাতা নয়, জেলাগুলিতেও ভিড় ছিল। এয়ারপোর্ট গোপলালপুর হাউজের মসজিদে জায়গা না পেয়ে মুসলিমরা পাশের বিল্ডিং এ নামাজ পড়েছে। এক মুসল্লি বলেন,’দেখুন রমজান পাওয়া এক সৌভাগ্যের বিষয়। সবার ভাগ্যে এটা জোটেনা। কবে আবার রমজান পাবো,জুম্মা পাবো জানিনা। তাই সবকাজ ফেলে মসজিদে এসেছি।’

বিভিন্ন জেলার মসজিদ, মাদ্রাসাগুলিতে ভিড় ছিল। মহিলারা অনেকে বাড়িতে জামায়াত করেছে। বহু মসজিদে মহিলাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।

ইমন মন্ডল, জাহাঙ্গীর সরদাররা বলেন,’ রাত জেগেছি। ফজরে হালকা বৃষ্টি হয়েছে। সকালে একটু ঘুমিয়ে আবার কুরআন পড়েছি। তারপর জুম্মার নামাজ পড়েছি। রমজানের যে কী আনন্দ তা বলে বোঝানো যাবেনা। তবে বহুদিন ধরে রোজা রেখে এই মাসের উপর মায়া বসে গেছে। গোনাহ মাফ হলো কিনা জানিনা, তবে আল্লাহর কাছে দোয়া তিনি যেন আমাদের সব গোনাহ মাফ করে দিয়ে নিষ্পাপ শিশুর মতো করে দেন।’
শেষ জুম্মার দিন বিভিন্ন বয়সের মানুষ দেখা গেছে মসজিদে। এবার বিরাট সংখ্যক যুবকদের দেখা গেছে। শিশুরাও এসেছে। সব মিলিয়ে রমজানের শেষ জুম্মাবার যেন ঈদের আগে গোনাফ মাফ নেয়ার বিশেষ এক ঈদ।