মুস্তাফিজুর রহমান, টিডিএন বাংলা, রাজারহাট: নদিয়ার পর রাজারহাটেও এবার সহিষ্ণুতা ও মানবীয় সংহতির ডাক দিল জামাআতে ইসলামি হিন্দ। রবিবার হিন্দু মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে পাথরঘাটা বাজার সংলগ্ন ময়দানে “চাই সহিষ্ণুতা, চাই মানবীয় সংহতি” শীর্ষক আলোচনা সভায় মহা মিলনের বার্তা দেন সংগঠনটির নেতারা।

এদিনই নদিয়ায় শান্তি সভা করে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার রাজারহাট ব্লকের সভায় বক্তব্য রাখতে এসেছিলেন জামায়াতের রাজ্য সভাপতি মহম্মদ নুরুদ্দিন। তিনি বলেন, “বর্তমান সময়ে মানুষের সহিষ্ণুতার বড় অভাব দেখা দিচ্ছে। কেউ যখন কোন কাজ করছে, কেন করছে,কী তার পরিণাম এসব ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখার প্রয়োজন মনে করছে না। সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সর্বত্রই এই অরাজকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।”
ওই জামায়াত নেতা আরও বলেন, ‘জামাআতে ইসলামী হিন্দ মনে করে সঠিক জীবন আদর্শের অভাবের কারণেই মানুষের মধ্যে এই ক্ষতিকর প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মানুষ যদি তার স্রষ্টাকে চিনে সঠিক জীবন বোধ লাভ করে তাহলেই একমাত্র এই অবস্থার পরিবর্তন করা সম্ভব। তাই আমরা ডাক দিয়েছি সহিষ্ণুতার, সেই সঙ্গে মানবীয় সংহতির।’
সংহতি সভায় মুসলিম পার্সোনাল ‘ল বোর্ডের সদস্য ডাঃ রইসুদ্দিন জাতীয় ঐক্যের ডাক দেন। তাঁর কথায়,” ভারতীয়দের মধ্যে যে ঐক্য আছে তাকে ধরে রাখা আমাদের একান্ত কর্তব্য। মানুষের সাথে মানুষের লড়াই নয়, লড়াই হবে কেবলমাত্র অমানবিকতার বিরুদ্ধে, লড়াই হবে সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে।”

দলিত বহুজন সলিডারিটি মুভমেন্ট এর সভাপতি শরদিন্দু উদ্দীপন বিশ্বাস বলেন, “ভারতবর্ষ রাম-রহিমের সঙ্গে একসঙ্গে থাকার দেশ, তাই আমাদের সকলকে এক সঙ্গে ভারতবর্ষের সহিষ্ণুতা বজায় রাখতে হবে।”তিনি বিজেপির সময় দলিত নির্যাতন বেড়েছে বলে অভিযোগ করেন।

এদিনের সভায় হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে বহু মানুষ উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতে ইসলামি হিন্দের নেতারা বলছেন, বর্তমান সময়ে ভারতবর্ষ তথা সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের জনসত্তাকে সাম্প্রদায়িক রঙে রাঙানোর চেষ্টা প্রবল আকার ধারণ করেছে। ধর্মের নামে দেশের মানুষের মধ্যে বিভেদ ও অসহিষ্ণুতার পরিবেশ তৈরী করে নানান ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আক্রান্ত হচ্ছে নিরীহ সাধারণ মানুষ। অথচ কোন ধর্মই নিরীহ মানুষকে হত্যা করার অমুমতি দেয় না। সনাতন ধর্মগ্রন্থ বেদে বিশ্বের সমস্ত মানুষকে একে অপরের আত্মীয় বলা হয়েছে। বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের মুল শিক্ষা অহিংসা পরম ধর্ম। কুরআনে বলা হয়েছে – যে অকারনে একজনকে হত্যা করলো সে যেন সমগ্র মানবতাকে হত্যা করলো। আর যে একজনের জীবন রক্ষা করলো সে যেন সমগ্র মানবতাকে রক্ষা করলো।

সংগঠনটির এক নেতা টিডিএন বাংলাকে বলেন, “আজ সময় এসেছে দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে সহিষ্ণুতার সঙ্গে মানবীয় সংহতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো। যেকোন মূল্যে অশুভ সাম্প্রদায়িক শক্তিকে ভারতের মাটিতে থেকে সমূলে উৎপাটন করতে হবে।”

এদিনের সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়েলফেয়ার পার্টির রাজ্য সভাপতি মনসা সেন, এসআইও-র রাজ্য সভাপতি ওসমান গনি, জিআইও-র রাজ্য সভাপতি সফিউন্নেসা খাতুন, জামাআতে ইসলামী হিন্দের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা সভাপতি জুলফিকার আলি গাজি, জেলা সম্পাদক আব্দুল আজীজ প্রমুখ।