নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা: আবার সেই প্রচলিত অঙ্কের হিসাব মিলছে। সংরক্ষিত আসনের বাইরে সাধারণ কোটায় তেমন চাকরি পায়নি মুসলিমরা, যা প্রমান করেছে রাজ্যের মুসলিমরা প্রতিযোগিতায় সাধারণ বিভাগে বেশি এগুতে পারেনি।

ডাব্লিউবিসিএস-এর গ্রূপ-সি’র পর এবার ডাব্লিউবিসিএস গ্রূপ-ডি (২০১৬) পরীক্ষাতেও দেখা গেলো মুসলিমরা সেই আগের মতোই পিছিয়ে। পাবলিক সার্ভিস (এক্সসিকিউটিভ) ২০১৬-এর গ্রূপ ডি’র ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে গত মঙ্গলবার। খবরে প্রকাশ, উত্তীর্ণ মোট ১৮৯ জন প্রার্থীর মধ্যে মুসলিমের সংখ্যা ২২ জন। এদের মধ্যে মাত্র দু’জন মহিলা রয়েছেন। ডাব্লিউবিসিএস গ্রূপ-ডি (২০১৬) পরীক্ষায় সফলদেরকে পঞ্চায়েত ডেভলপমেন্ট অফিসার (পিডিও) এবং ইনস্পেক্টর অব কো-অপারেটিভ সোসাইটিজ পদে নিয়োগ হবে। গ্রূপ-ডি’র দুই বিভাগের মোট সফল প্রার্থী ১৯৮ জন। পঞ্চায়েত ডেভলপমেন্ট অফিসার (পিঠিও) সফল প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ১২০ জন এবং ইনস্পেক্টর অব কো-অপারেটিভ সোসাইটিজ পদের জন্য সফল হয়েছেন ৬৯ জন। দুটি ক্ষেত্রে দু’জন মহিলা সহ মাত্র ২২ জন মুসলিম প্রার্থী সফল হয়েছেন। এদের বেশির ভাগই হচ্ছে ওবিসি-এ তালিকা ভুক্ত। মাত্র তিনজন মুসলিম সাধারণ তালিকায় এবং ১৯ জন ওবিসি-এ তালিকায় স্থান পেয়েছেন। তবে ১৩ জন সফল ওবিসি বি প্রার্থীদের মধ্যে একজন মুসলিমও সফল হননি। দেখা যাচ্ছে, বরাবরই সাধারণ বিভাগ ও ওবিসি’বি তে মুসলিম ছেলেমেয়েরা সুযোগ পাচ্ছে না।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে ওবিসি সম্প্রদায়ের সংখ্যা ১৭৬টি। এর মধ্যে ওবিসি এ ৮১ এবং ওবিসি বি ৯৫ টি। মুসলিমদের ১১৬ টি গোষ্ঠী ওবিসি ভুক্ত। এর মধ্যে মুসলিম ওবিসি এ তে আছে ৭৩ টি ও মুসলিম ওবিসি বি তে ৪৩টি গোষ্ঠী আছে। এই ৪৩টি জনগোষ্ঠীর একজনও ওবিসি-বি’তে এবার সফল হননি।

দেখা যাচ্ছে, ১০% সংরক্ষনের বাইরে মুসলিম প্রার্থী সফল হয়েছে মাত্র ২%। টিডিএন বাংলাকে অনেকেই বলছেন, প্রায় প্রতিটি পরীক্ষাতে ওবিসি-বি ও সাধারণ মুসলিমরা কেন ভালো ফল করছেন না তা একটি বিশেষ কমিটি গড়ে দেখতে হবে। সংরক্ষণ নীতি কতটা মানা হয়েছে তারও শ্বেতপত্র প্রকাশ করা উচিৎ। আর যদি, যোগ্যতার ক্ষেত্রে মুসলিমরা সত্যিই সাধারণ বিভাগ ও ওবিসি-বি তে পিছিয়ে থাকে তবে সরকারের উচিৎ এই সমস্যার সমাধানে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া।