কলকাতা জুড়ে চলছে তুমুল ঝড়বৃষ্টি, ত্রিপল মাথায় বাঁচার চেষ্টা অসহায় এসএসসি চাকরিপ্রার্থীদের

রেবাউল মন্ডল, টিডিএন বাংলা, কলকাতা : এই ঝড় বৃষ্টির রাতে সবাই যখন প্রিয়জনদের সাথে নিজ নিজ বাড়িতে কাটাচ্ছেন তখন শ’চারেক যুবক যুবতী ত্রিপল মাথায় ঠাঁই দাঁড়িয়ে কলকাতার রাস্তায়। ভিজে গেছে জামা কাপড়। ঠান্ডায় শুরু হয়েছে কাঁপুনি। তবুও সিদ্ধান্তে অনড় এসএসসি উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীরা। তাদের সাথে দেখা করতে আসেন অভিনেতা বিমল সরকার। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে তিনিও ত্রিপল মাথায় দাঁড়িয়ে পড়েন ওদের সাথেই।

রবিবার ওদের অনশন আন্দোলন ১৮ দিনে পড়লো। কিন্তু সরকারি তরফে এখনো কোন আশ্বাসবাণী না মেলায় স্বভাবতই হতাশ চাকরিপ্রার্থীরা। লিখিত ও ভাইভায় সফল হয়েও ওরা চরম বঞ্চনার শিকার। প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাঝে খোলা আকাশের নিচে এভাবেই দিনের পর দিন চলছে ওদের নীরব আন্দোলন।

নিজস্ব ছবি : কলকাতা জুড়ে চলছে তুমুল ঝড়বৃষ্টি, ত্রিপল মাথায় বাঁচার চেষ্টা অসহায় এসএসসি চাকরিপ্রার্থীদের

ইতিমধ্যেই ৫৮ জনের অসুস্থের খবর পাওয়া গেছে। প্রচণ্ড সূর্যের তাপেও ছাতা মাথায় ঠাঁই বসে রাস্তায়। ওরই মাঝে কোলের শিশুকে কিছু খাইয়ে দিচ্ছেন চাকরিপ্রার্থী মা। সন্তানদের ভরসা হতে পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন অনেক মা বাবাও।

মাথার উপর ছাউনি নেই, নেই পর্যাপ্ত বাথরুম টয়লেটের ব্যবস্থা। ইনফেকশনে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন অনেকেই। নেতৃত্বদেরও কেউ কেউ এখন অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। দুদিনের ঝড় বৃষ্টির রাতেও ওরা দাবিতে অনড় প্রেস ক্লাবের সামনে। ত্রিপল হাতে ঠাঁই দাঁড়িয়ে কাটছে সারাটা রাত।

পাশেই ধর্মতলার রানী রাসমণি রোডে চলছে শাসক দলের অবস্থান-বিক্ষোভ। যেখানে রয়েছে সুশোভিত মঞ্চ। রয়েছে পাখা লাইটের ব্যবস্থাও। এদিকে এসএসসি ছাত্র-যুব মঞ্চের প্রায় ৪০০র অধিক অনশনকারীর দিনরাত কাটছে রোদ জলে। দেখার কেউ নেই। নেই কোন সরকারি ব্যবস্থাও। কেবলমাত্র আশা আর প্রচণ্ড মানসিক শক্তি নিয়েই ওরা বসে আছে রাস্তায়।

কবি ও সাহিত্যিক মোকতার হোসেন মন্ডল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি সরকারের বিবেক যখন মরে যায় তখন ঝড় বৃষ্টিতে চাকরির দাবিতে পলিথিন টাঙিয়ে আমাদের ঘরের ছেলেমেয়েদের পথে রাত পাহারা দিতে হয়। আজ ১৮ দিন ধরে ওরা অনশন করছে। রাজ্যে সরকার, প্রশাসন আছে? রাজ্যপাল কেন হস্তক্ষেপ করছেন না? কেন কেন্দ্রীয় সরকার, বিরোধী দল এই নিয়ে ভাবছে না? ওরাতো এদেশের ছেলেমেয়ে। ওরা কী বলতে চায়,শোনার সময় কি কারও নেই!

কিন্তু এভাবে আর কতদিন? দেখতে দেখতে ১৮ টি দিন পেরিয়ে গেছে। শিক্ষামন্ত্রী ওদের আস্বস্ত করতে পারেন নি। দেখা করেন নি মুখ্যমন্ত্রীও।
এদিকে বাড়ির বাবা মায়েরা পথ চেয়ে আছেন কবে ফিরবে কলিজার টুকরোটি।

কিন্তু আদৌ কি ওরা হাসি মুখে বাড়ি ফিরবে? সরকার কি ওদের ন্যায্য দাবি মেনে নেবে? উঠছে সে প্রশ্নও। তবে যত কষ্টই হোক। দাবি না মানা অব্দি ময়দান ছাড়ছেন না বলেও জানাচ্ছেন অনশনকারীরা। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে লড়াই করে খোলা আকাশের নিচে আর কত রাত কাটবে ওদের? সেকথা ভবিষ্যৎই বলবে।