টিডিএন বাংলা ডেস্ক : “মুসলিমদের টন টন রক্তের বিনিময়ে এদেশ পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়েছে। যারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ছিলো আজ তারাই সবচেয়ে দেশ ভক্তির ভান করছে।” আজ সোমবার নদীয়া জেলার করিমপুর থানার অন্তর্গত নতিডাঙ্গা বাবুপাড়া গ্রামে রাজ্য বন্দিমুক্তি কমিটির উদ্যোগে আক্রান্ত ভারতের সংবিধান ও ধর্ম নিরপেক্ষতা বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন জমিয়তে আহলে হাদীস পশ্চিমবাংলার রাজ্য সম্পাদক আলমগীর সরদার। এদিনের এই সভায় উপস্থিত ছিলেন বন্ধিমুক্তি কমিটির রাজ্য সভাপতি ও বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী সুজাত ভদ্র, নদীয়া জেলার সভাপতি অমল তরফদার, বন্দিমুক্তি কমিটির রাজ্য সম্পাদক ছোটন দাশ, জেলা সম্পাদক জয়দীপ চৌধুরী, এম এ হান্নান, ডঃ মিনারুল ইসলাম প্রমুখ বিশিষ্টরা।

এদিনের অনুষ্ঠান নদীয়া জেলার সভাপতি অমল তরফদারের সভাপতিত্বে শুরু হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রাক্তন অধ্যাপক, বন্ধিমুক্তি কমিটির রাজ্য সভাপতি ও বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী সুজাত ভদ্র বলেন, দেশ স্বাধীন হবার পর বহু পর্যালোচনা শেষে দেশে সংবিধান চালু হয়। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের কোন ধর্ম থাকবেনা বরং প্রত্যেক সম্প্রদায়ের ধর্ম পালনে নিরাপত্তা প্রদান করবে রাষ্ট্র। রাষ্ট্রের কাজ হলো সম্প্রদায়ে সম্প্রদায়ে মারামারি, হানাহানি লাগানো নয় বরং তা বন্ধ করা। তিনি বলেন, একক কোনো সম্প্রদায়ের টাকায় এদেশ চলে না, দেশ চলে হিন্দু মুসলিম সবার ট্যাক্সের টাকায়, তাই এখানে সবার সমান অধিকার সংবিধান স্বীকৃত। এনআরসির নামে আসাম থেকে চল্লিশ লক্ষ লোককে দেশহীন করে দেবার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তিনি তীব্র প্রতিবাদে মূখর হন। রাষ্ট্রীয় ভাবে যেভাবে ঘৃণা বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে তা বন্ধ করার জন্য সরকারের প্রতি তিনি উদাত্ত আবেদন রাখেন।

অন্যদিকে সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জমিয়তে আহলে হাদীস পশ্চিমবাংলার রাজ্য সম্পাদক আলমগীর সরদার বলেন, মুসলিমদের টন টন রক্তের বিনিময়ে এদেশ পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়েছে। যারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ছিলো আজ তারাই সবচেয়ে দেশ ভক্তির ভান করছে। দেশের অখন্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব এদেশের হিন্দু মুসলিম সমস্ত ভারতবাসীর। এদিন বক্তব্য রাখেন বন্দিমুক্তি কমিটির রাজ্য সম্পাদক ছোটন দাশ। তিনি বলেন, দেশের সংবিধানের ২৫-৩০ নাম্বার অনুচ্ছেদে প্রত্যেক সংখ্যালঘু নাগরিকের ধর্ম পালনে স্বাধীনতা দিয়েছে, বর্তমানে কেন্দ্রের আরএসএস পরিচালিত বিজেপি সরকার কার্যত তা নাকচ করেছে। তিনি গোরক্ষার নামে পরিকল্পিত ভাবে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর বর্বরোচিত হামলা তৎসহ বিভিন্ন ভুয়ো মামলায় তাদের নিগ্রহের তীব্র নিন্দা জানান।