কৌশিক সালুই, টিডিএন বাংলা, নানুর: প্রথমে চোখে লোহার রোড দিয়ে খোঁচা তারপর নোড়া দিয়ে দাঁত ভেঙে দেওয়া এবং শেষমেশ ঘরের ভিতর ঢুকিয়ে জ্যান্ত পোড়ানো। নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ এমনই এক ঘেন্না ধরা নারকীয় হত্যালীলার শিকার হয়েছেন। ঘটনায় স্তম্ভিত ঘটনাস্থল নানুরের মোহনপুর গ্রাম। হত্যার অভিযোগ শ্বশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। মৃতার নাম সরস্বতী মেটে (২৮)। নানুর থানার মোহনপুর গ্রাম থেকে পুলিশ মৃতার শ্বাশুড়িকে আটক করেছে।

পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম থানার নবগ্রামের বাসিন্দা সরস্বতী মেটের সঙ্গে ৮ বছর আগে বিয়ে হয়েছিল বীরভূমের নানুরের মোহনপুরের অমল মেটের। পেশায় লরি চালক। মৃতার বাবা শৈলেন মাঝির অভিযোগ, অমলের বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্ক ছিল। তাতে আপত্তি করায় মেয়েকে প্রায় দিন মারধর করত। সেই বিবাদ চরমে ওঠায় ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা সরস্বতীকে নোড়া দিয়ে দাঁত ভেঙে, চোখে রডের খোঁচা দেওয়া হয়।

পরে গৃহবন্দী করে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঘরের মধ্যে আগুন জ্বলতে দেখে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। গুরুতর অবস্থায় সরস্বতীকে উদ্ধার করে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। নানুর থানার পুলিশ মৃতার শ্বাশুড়িকে আটক করেছে। বাকীরা পলাতক।