নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ: স্বাধীনতার ৭২ বছর পরেও মুর্শিদাবাদে একটিও পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেনি। জেলার ছাত্র সমাজের দীর্ঘদিনের লাগাতার আন্দোলনের চাপে ২০১৮ সালের ২৮ শে ফেব্রুয়ারি মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা দিয়েছিল তৃণমূল শাসিত রাজ্য সরকার। কিন্তু ঘোষণায় সার, দেড় বছর অতিক্রান্ত হলেও আজও জেলায় গড়ে উঠেনি বিশ্ববিদ্যালয়। বিগত বাম-কংগ্রেস সরকারের মতো তৃণমূল সরকারও কি জেলাবাসীকে ধোঁকা দিচ্ছে? সরকারের এই দ্বিচারিতা মনোভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ফের আন্দোলনে নেমেছে ছাত্র সংগঠন এসআইও।

জানা গেছে, “সুসংহত দেশ গঠনের অঙ্গীকার, চাই পূর্ন অধিকার” শীর্ষক বিষয় নিয়ে মুর্শিদাবাদ জেলা সম্মেলন করতে চলেছে এসআইও। সেই সম্মেলনেরই অন্যতম দাবি মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্রুত বাস্তবায়ন। ইতিমধ্যেই সেই দাবি নিয়ে জেলাজুড়ে পথসভা থেকে মাইকিং, পোস্টারিং দেওয়াল লিখন শুরু করেছে এসআইও। জেলার ছাত্র সমাজকে একত্রিত করে সম্মেলনের মধ্য দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে জোরদার আন্দোলনের বার্তা দিতে চাইছে সংগঠনটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবীতেও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের ঝড় তুলেছে এসআইও।

সংগঠনের জেলা সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল কারীম ফেসবুকে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে লিখেছেন, “মুর্শিদাবাদ বাসি মীর জাফর, উমিচাঁদ, জগৎশেঠ, রায় দুর্লভ দেরকে অন্তর থেকে ঘৃণা করে, তাদেরই কিছু কুখ্যাত বংশধর রয়ে গেছে যারা ছলে-বলে-কৌশলে “মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়” বাস্তবায়ন বন্ধের প্রচেষ্টা করছেন । কিন্তু মীর মদন, মোহনলালদের আজও সমগ্ৰ জেলাবাসী শ্রদ্ধা করে, নিজেদের কে তাঁদের উত্তরসূরী মনে করে। তাইতো বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বিধানসভা পর্যন্ত অভিযান করতে পারে । “মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়” দ্রুত বাস্তবায়ন নাহলে আবারো বিধানসভা কাঁপানোর জন্য প্রস্তুত আছে জেলাবাসী। আর হ্যাঁ বিশ্বাসঘাতকদের পরামর্শ গ্ৰহন করা হবে না এবার, সেই শিক্ষা পলাশীর প্রান্তরেই পেয়েছি আমরা।” তিনি মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে ছাত্র সমাজকে এগিয়ে সম্মেলন সফল করার আহবান জানান।