আবু ওয়াহিদা, টিডএন বাংলা, রামপুরহাট: ভারতবর্ষে নানা জাতি, নানা ধর্ম, নানা বর্ণ, নানা সম্প্রদায়ের একত্র সহবস্থান। সবাই নিজের মতো করে ধর্মাচরণ করে। উৎসবও পালন করে। আর এই ঐতিহ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই প্রতি বছরের ন্যায় এবারও রামপুরহাট শহরে জামাত-ই-ইসলামী হিন্দ এর ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত হল ঈদ মিলন উৎসব। বৃহস্পতিবার রামপুরহাটের সংহতি পল্লীর জামাত অফিসের মিটিং হলে সব ধর্মের মানুষের উপস্থিতিতে যেন সম্প্রীতি মেলায় পরিণত হয় এই অনুষ্ঠান। কোনায় কোনায় উপচে পড়ে দর্শক শ্রোতা।

এদিন ঈদ মিলন উৎসবের সূচনা হয় আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাহী মাসুম রেজা-র তেলাওয়াতে কুরআনের মাধ্যমে। “ইসলাম মানবতার ধর্ম” এই বিষয়ে সবধর্মের মানুষের সমন্বয়ে চলে একটি সুস্থ আলোচনা । ডাক্তার আমিন আহমেদ সাহেবের আহ্বানে এই মিলন উৎসব ও আলোচনায় অংশ নেন অত্র এলাকার উভয় সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। উপস্থিত ছিলেন রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রক্ষাত চিকিৎসক বঙ্কু দত্ত, বিশিষ্ট সমাজসেবী নরেন্দ্রনাথ সিংহ, জামাতের জেলা সভাপতি সেলিম রেজা, মহিলা শাখার আবিদা খাতুন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রামপুরহাট রেলওয়ে আদর্শ বিদ্যাপীঠের দুজন বরেণ্য শিক্ষক প্রনয়রণ্জন সরকার ও শৈলেন মণ্ডল, সহ নাগরিক মহঃ নাসিরুদ্দিন ও ইন্দ্রজিৎ চ্যাটার্জি প্রমুখ। সংহতির জন্য জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সব ধর্মের মানুষ বিশেষ করে প্রতিবেশী হিন্দু পুরুষ মহিলার উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। পরস্পরের ধর্ম, সমাজ সংস্কৃতি সম্পর্কে পরিচিত হওয়ার মাধ্যমে একটি সুন্দর ভাতৃত্ববোধ তৈরি করার লক্ষে অনুষ্ঠানটি সফল হয়ে উঠে।

ভিন্ন ধর্মাবলম্বী ব্যক্তিদের আলোচনায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ কণ্ঠে ধ্বনিত হয় ‘বাংলার বারো মাসে তেরো পার্বণের কৃষ্টি-সংস্কৃতির ধারা, যা আবহমান কাল ধরে প্রবহমান, সেখানে নেই কোনও ভেদাভেদ। ভারতীয় সংবিধান সবার জন্য সমান অধিকার প্রদান করেছে। সেই বলেই আমরা সবাই নিজ নিজ সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য বজায় রেখে উৎসবে একাত্মতা প্রকাশ করি।’ ঈদ উৎসবের আনন্দবন্যায় অবগাহন করে হৃদয়কে প্রসারিক করে তোলার আহ্বান। মিলনের এই ঐতিহ্যই বাংলার প্রাণশক্তি। আগামীতেও এইভাবেই ভিন্ন পরবে-উৎসবে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে হাতে হাত রেখে নিজেদের সম্পৃক্ত করার, আনন্দ বিনিময়ের প্রত্যাশা নিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।