নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা : প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়,যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, সেন্ট জেভিয়ার্স, আলিয়াইউনিভার্সিটি, নেতাজি সহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের  শাঁখা এখন রাজারহাট নিউটাউনে। আর এ কারণেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার প্রেসিডেন্সির নতুন ক্যাম্পাসের উদ্বোধন করতে এসে মন্তব্য করলেন,’ এই এলাকা একদিন এডুকেশন হাব হবে’।

সুইচ টিপে বিশ্ববাংলার কাছে প্রেসিডেন্সির নতুন ক্যাম্পাসের উদ্বোধন করে তিনি বলেন,’ স্বপ্ন দেখতে আপত্তি কোথায়, রবীন্দ্রনাথ যদি বলে চিত্ত যেথা ভয় শূন্য উচ্চ যেথা শির। আমি স্বপ্ন দেখি, একদিন প্রেসিডেন্সি পৃথিবীর এক নম্বর বিশ্ব বিদ্যালয় হবে। বাংলার বিশ্ববিদ্যালয় হবে পৃথিবীর জ্ঞান চর্চার সেরা কেন্দ্র। দুনিয়ার মানুষ এখানে আসবে শিক্ষার্জন করতে। অক্সফোর্ড, হার্ভার্ডের সাথে সাথে মানুষ প্রেসিডেন্সি, যাদবপুরের নাম করবে।’

ক্যাম্পাসটির জমির মূল্য প্রায় তিনশো কোটি বলে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি। কিন্তু সেই জমি শিক্ষার জন্য প্রেসিডেন্সিকে দেওয়া হয়েছে বিনামূল্যে। হিডকো সহযোগিতা করেছে।

রাজ্য সরকার যেভাবে সহযোগিতা করেছে তাতে খুশি প্রেসিডেন্সি কর্তৃপক্ষ।ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অনুরাধা লোহিয়া বলেন,’ মুখ্যমন্ত্রীর জন্য অনেক করা সহজ হয়েছে। রাজ্য সরকারের কাছ থেকে যেভাবে সমর্থন পেয়েছি, অর্থ সাহায্য পেয়েছি তাতে প্রেসিডেন্সিকে পৃথিবীর সেরা প্রতিষ্ঠান করতে পারবো। ২০১৫ সালে ৩৭০ কোটি টাকা দিয়েছেন। রাজারহাট নিউ টাউনের শাখা খুলতে ১৮২ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।’

নিউটাউনে তৈরি বিরাট দুটি টাওয়ারে ৫ স্কুল হচ্ছে। এইসব স্কুলে বিভিন্ন বিভাগের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করবে।
রাজ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা রেখে সরকার। আর সেজন্য একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়,
আমাদের সরকারের সময় ২৮ টি ইউনিভার্সিটি আমাদের সময় হয়েছে। আরও ১০ টি হবে। কন্যাশ্রী এখন সবাই পাচ্ছে। ৫৮ লাখ পাচ্ছে, কিছুদিন পর ৭৮ লক্ষ মেয়ে যাতে পায় সেই কাজ চলছে।’
এই ক্যাম্পাস প্রেসিডেন্সির ইতিহাসে একটা নতুন অধ্যায় বলেও মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন,’প্রেসিডেন্সি সভ্যতা নিয়ে, ইতিহাস নিয়ে, ঐতিহ্য নিয়ে অহংকারের সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি নব জাগরণের কাজ করেছে। সংস্কৃতিতে, বিজ্ঞানে, রাজনীতিতে, অর্থনীতিতে নতুন কিছু ভাবনায় ‘থার্ড আইয়ের’ কাজ করছে। নতুন পথ দেখাচ্ছে।

রাজনৈতিক নেতাদের আড়ালে দেশ যে আমলারা চালায় তাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়,’আজ দেশ চালায় কারা? আইএসরা, আইপিএসরা। সিভিক সার্ভিসের লোকজন। এরাই দেশের সব বিভাগ চালায়।’

তবে আজকের দিনে সাইভার ক্রাইম বড় বিষয় বলে উল্লেখ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, একটা পোস্টে অনেক কিছু ঘটে যেতে পারে।তাই খারাপটাকে না নিয়ে ভালোটাকে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।