বিশেষ সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা : উত্তর প্রদেশের নির্বাচনে মোদির জয় নিয়ে চিন্তিত জমিয়তে আহলে হাদিসের রাজ্য সম্পাদক আলমগীর হোসেন। টিডিএন বাংলাকে তিনি বলেন, “গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত সরকারকে অবশ্যই মান্যতা দিতে হবে, তবে দেশটা মেরুকরণের পথে এগিয়ে চলেছে।”
নোটবাতিলের কোনো প্রভাব পড়লো না  উত্তরপ্রদেশে। গেরুয়া ঝড়ে পামচার সাইকেল, হাতির শক্তিও ক্ষুন্ন। সব সমীক্ষা ছাপিয়ে বিরাট ব্যবধানে জয়ী হলো বিজেপি। স্বাভাবিক কারনেই দেশ জুড়ে আনন্দের জোয়ার গেরুয়া শিবিরে। দেশজুড়ে গেরুয়া শিবিরের হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি আর মোদীর চমকপ্রদ তথাকথিত উন্নয়নের জোয়ার দেখে গোবলয়ের মানুষ রামমন্দির আর বাবরি মসজিদের গেরুয়াকরনের পক্ষেই রায় দিলো।
গোটা দেশ আজ বেকারত্বের জ্বালায় ভুগছে। কৃষকরা ফসলের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে আত্বহত্যা করছে, যখন তখন দলিত মুসলিমদের উপর আক্রমণ হচ্ছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোতে এবিভিপির গুন্ডাগিরি শুরু হয়েছে, আরএসএসের নেতারা উত্তেজনা মুলক বক্তব্য পেশ করে হিন্দু মুসলিমদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করছে। গোটা দেশে আজ অরাজকতার অবস্থা চলছে। যখন তখন গণতন্ত্রের টুটি চিপে ধরা হচ্ছে। সন্ত্রাসী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার পরও সন্ত্রাসীরা মুক্তি পাচ্ছে, হাজার হাজার নিরীহ নির্দোষ মানুষকে জেলে পুরে দেওয়া হচ্ছে। ভুয়ো এনকাউন্টার করে নির্দোষ যুবকদের হত্যা করা হচ্ছে। অন্যদিকে মোদীর নোটবন্দীর ফলে দেশে এক অরাজকতার পরিবেশ তৈরি হয়েছিলো, শতাধিক মানুষকে ব্যাঙ্কের লাইনে দাঁড়িয়ে জীবন হারাতে হয়েছে, সর্বপ্রকার শ্রমিকরা কার্যত নিজেদের কাজ হারিয়ে বেকারত্বের জ্বালায় ভুগছে। তারপরেও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে উত্তরপ্রদেশে বিজেপির পক্ষেই রায় দিলো সাধারন মানুষ। যা নিয়ে গোটা দেশের বুদ্ধিজীবী মহল উদ্বিগ্ন। গেরুয়া শিবিরের এই জয়ে দেশের অবস্থা কোন দিকে গড়াবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকেই।