নিজস্ব প্রতিনিধি, টিডিএন বাংলা, কলকাতা: নবান্নে জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জট কাটাতে ওই বৈঠক হয়। বৈঠকে ছিলেন রাজ্যের মুখ্য সচিব, স্বাস্থ্য সচিব কলকাতা পুলিশ কমিশনার এবং অন্যান্য সরকারি আধিকারিকরা। বৈঠকে ছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এই বৈঠক এ রাজ্যের সরকারি হাসপাতাল গুলির জন্য নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এর জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। তারা জানিয়েছেন, আপনার মধ্যে সদিচ্ছার কোন অভাব নেই। কিন্তু আমরা ভয়ের মধ্যে কাজ করছি। সাধারণ মানুষ কষ্ট পাচ্ছেন কিন্তু আমরা নিরুপায়।

এই প্রসঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারি আধিকারিকদের বলেন, জুনিয়র চিকিৎসকদের নিরাপত্তার জন্য সরকার কি কি ব্যবস্থা নিয়েছে সেটা জুনিয়ার চিকিৎসকদের জানিয়ে দেওয়ার জন্য। একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সেদিনের ঘটনার তদন্ত হচ্ছে রিপোর্ট আসবে খুব তাড়াতাড়ি। কোন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়নি। একই। সঙ্গে জুনিয়র চিকিৎসকদের উদ্যেশ্যে মমতা বলেন, তোমরা ছোট ছোট ছেলে কেন তোমাদের উপর কেস করবো। তোমরা আমাদের ভবিষ্যত।

এদিন নিরাপত্তা এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এর ক্ষেত্রে একাধিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কি কি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বৈঠকে-

* ইমারজেন্সির সামনে বিশেষ গেট করে দিতে হবে। রাজ্যের সব মেডিক্যাল কলেজের ইমার্জেন্সির সামনে কলাপসিবল গেট।

* তিনটে শিফটে তিন জনকে রাখা হবে, যারা রোগীর শারীরিক অবস্থার আপডেট জানাবে রোগীর পরিবারকে।

* সব হসপিটালে আলাদা করে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে, এক জন নোডাল অফিসার থাকবে। যিনি হাসপাতাল গুলির নিরাপত্তা দেখাশোনা করবেন।

* অনেক বাইরের রোগী আসে সেক্ষেত্রে অনেককে নিয়ে ঢুকে পরে সেখানে একটা ক্রস চেক করতে হবে। যাতে কোন সমস্যা না হয়।

* রাতের নিরাপত্তার দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

* সরকারি হাসপাতালে গ্রিভেন্স সেল থাকবে। যেখানে অভিযোগ জানতে পারবেন রোগীর পরিবারের সদস্যরা।

* ট্রাকে করে এসে মানুষ কিভাবে হাসপাতালে এলো এটা নিয়ে পুলিশকে দেখতে হবে। লোকাল থানাকেও এটা নিয়ে সজাগ থাকতে হবে।

* অনেককেই হসপিটালে এসে একটা সমস্যা তৈরি করে। যে যতই পরিচিত মানুষ হোক না কেন, পুলিশকে অ্যাকশন নিতে হবে।

* পুলিশ আর স্বাস্থ্য দফতর মিলে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে এই বিষয়ে। রোগী কল্যাণ কমিটি অনেক জায়গায় আছে কিন্তু সব জায়গায় সক্রিয় নয় বলে অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

*প্রস্তাবিত কাজ যেনো পরে না থাকে। সব কাজ দ্রুত বাস্তবায়িত করতে হবে। কাজ ফেলে রাখলে হবে না।

* একটা অ্যালর্ম সিস্টেম চালু করতে হবে যেখানে লোকাল থানার সঙ্গে যোগাযোগ থাকবে। আপৎকালীন অবস্থায় পুলিশ জানতে পারবে।

এদিনের বৈঠক শেষে জুনিয়র চিকিৎসকদের দ্রুত কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।