হাবিবা খাতুন সরদার, টিডিএন বাংলা বনগাঁ: উত্তর ২৪ পরগণার মতুয়াধাম ঠাকুরবাড়িতে প্রয়াত ‘বড়মা’ বীণাপাণি ঠাকুরের স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মতুয়াদের একাংশের ক্ষোভের মুখে পড়লেন কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া বিধায়ক দুলাল বর। অন্যদিকে, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলেও তাঁকে গুরুত্ব দেননি রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।

আগেই শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠানের পরে রবিবার ছিল বড়মার স্মৃতিচারণ ও সেই উপলক্ষে খাওয়া-দাওয়ার অনুষ্ঠান। এদিন মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি মমতা ঠাকুরের নেতৃত্বে একটি অনুষ্ঠান হয়। অন্যদিকে, মতুয়াদের আর এক অংশের নেতা ও মমতা ঠাকুরের দেওর পুত্র শান্তুনু ঠাকুরদের পক্ষ থেকে পৃথক একটি অনুষ্ঠান করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে কৈলাস বিজয়বর্গীয়-সহ অন্য বিজেপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এপ্রসঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, ‘কৈলাস কেন, মানস সরোবর এখানে এলেও কোনও লাভ হবে না। যে আসে আসুক তাতে কিছু এসে যায় না।’

ঠাকুরবাড়িতে তৃণমূল রাজনীতি ঢুকিয়ে দিয়েছে বলে শান্তনু ঠাকুরদের অভিযোগ প্রসঙ্গে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, ‘বড়মার স্বামী প্রমথরঞ্জন ঠাকুর এমপি ছিলেন, মন্ত্রী হয়েছিলেন, বিধায়ক ছিলেন। সেই বাড়ির বড়ছেলে (কপিলকৃষ্ণ ঠাকুর)এমপি ছিলেন, বড় বৌমা (মমতা ঠাকুর) এমপি হয়েছেন, ছোট ছেলে (মঞ্জুল ঠাকুর) মন্ত্রী হয়েছিলেন। তখন তো ছোট ছেলে (মঞ্জুল ঠাকুর) বলেননি আমার মন্ত্রী হওয়া উচিত নয়, রাজনীতি করা উচিত নয়। তৃণমূলের টিকিটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশীর্বাদ নিয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন উনি, সেদিন রাজনীতির কথা মনে পড়েনি? যখনই মমতা ঠাকুর এমপি হয়েছেন, তখনই শান্তনু ঠাকুরের (মঞ্জুল পুত্র) মনে পড়েছে এবাড়িতে রাজনীতি হওয়া উচিত নয়! সেজন্য আয়নায় আগে নিজের মুখটা ভালো করে দেখা উচিত।’

অন্যদিকে, বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়র দাবী এখানে তিনি রাজনীতি করতে আসেননি। প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং বড়মার আশীর্বাদ নিয়েছিলেন, সেজন্য বড়মাকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন। যদিও এদিন তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল এবং এনআরসি ইস্যুতে বিভিন্ন মন্তব্য করেন।

এদিন বিকেলে বাগদার বিধায়ক দুলাল বর যিনি সম্প্রতি কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, তিনি ঠাকুরবাড়িতে ঢুকতে গেলে কতিপয় মতুয়াভক্তের ক্ষোভের মুখে পড়েন। তাদের প্রশ্ন বড়মার মৃত্যুর সময় আসেননি, এখন এসেছেন কেন? সামনে নির্বাচন সেজন্যই কি তিনি এখানে এসেছেন? দুলাল বাবু অবশ্য বিলম্ব না করে ওই স্থান ত্যাগ করেন। তিনি একজন মতুয়াভক্ত হিসেবে বড়মাকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন বলে সাফাই দেন দুলাল বর।

এদিন ঠাকুরবাড়িতে খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, বিভিন্ন এলাকার তৃণমূল বিধায়ক, জেলা পরিষদের কর্মাধক্ষ একেএম ফারহাদ ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।