টিডিএন বাংলা ডেস্ক: ছোট ছোট ইস‍্যুকে খুঁচিয়ে হাঙ্গামা বাঁধানোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে একটি গোষ্ঠী। লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে দেশের অন্যান্য রাজ্যের পাশাপাশি এরাজ্যেও সেই ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এবারে সেই ঘটনা ঘটলো উত্তর ২৪ পরগনা দেগঙ্গাতে। এবার আক্রান্ত হলেন খোদ রাজ্যের এক সংখ্যালঘু যুব নেতা।

সোমবার বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হলেন সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের রাজ্য সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান। দুষ্কৃতীদের হাতে জখম হন সংগঠনের দেগঙ্গা ব্লক এর দায়িত্বশীল রফিকুল ইসলামও। এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের একাধিক সংগঠন। ইতিমধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবীতে দেগঙ্গা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে যৌথ বিবৃতি দিয়ে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মুহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান,এদিন সকালে কলকাতার উদ্দেশ্যে তিনি দেগঙ্গা বাজারের উপর দিয়ে আসছিলেন। সে সময় তিনি লক্ষ্য করেন দেগঙ্গা বাজারে অবস্থিত সংখ্যালঘু যুবফেডারেশনের অফিসের সামনে বাঁশ দিয়ে ঘেরা হচ্ছে। ঈদের শুভেচ্ছা জানানো সহ সংগঠনের একাধিক পোষ্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। কর্মরত শ্রমিকদের কাছে কামরুজ্জামান জানতে চান কেন ঘেরা হচ্ছে? সে সময় বেশ কয়েকজন বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতী অস্ত্র হাতে তার দিকে তেড়ে আসে। তাকে প্রাণনাশের চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগ কামরুজ্জামানের। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের দায়িত্বশীল রফিকুল ইসলামকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। যদিও এবিষয়ে ওই গোষ্ঠীর কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নি। রাজ্যের এক পরিচিত সংখ্যালঘু নেতার উপর আক্রমণের ঘটনায় নিন্দা করেছেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্ব। নিন্দা প্রকাশ করেছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী, জাস্টিস নূরে আলম চৌধুরী, মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা, সাংসদ আহমদ হাসান ইমরান, বিধায়ক ইদ্রিস আলী, বিধানসভার পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের রাজ্য সম্পাদক মুফতি আব্দুস সালাম, দিশা সংগঠনের ইফতেখার হোসেন,মুন্সি আবুল কাশেম, পীরজাদা সৈয়দ তাহসিনুল ইসলাম, বঙ্গবাসী কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রহিম, ফুরফুরা শরীফের মাওলানা ফখরুদ্দীন আব্বাসী, জামায়াতে ইসলামী হিন্দের ডা. মশিউর রহমান, মাওলানা নিজাম উদ্দিন বিশ্বাস, ডা. সাবাহ ইসমাইল নাদভী সহ বহু বিশিষ্টজন।

এ বিষয়ে জমিয়তে আহলে হাদিস পশ্চিমবাংলা সম্পাদক আলমগীর সরদার বলেন, গেরুয়া বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। যারা এই ঘটনার জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসন আইনি ব্যবস্থা নিক।

প্রসঙ্গত,আজ মন্ত্রী মাওলানা সিদ্দিকুলাহ চৌধুরীর নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দেখা করতে দেগঙ্গায় যাচ্ছেন। থাকছেন রেড রোডের ইমাম ক্বারী ফজলুর রহমান। দোষীদের শাস্তির দাবিতে দেগঙ্গা থানাতেও প্রতিনিধি দলটি যাবেন বলে সূত্রে খবর। (সৌজন্য:পুবের কলম)