নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ : উচ্চশিক্ষায় ছাত্রীদের এগিয়ে নিয়ে আসতে নানারকম উদ্যোগ গ্রহণ করছে রাজ্য সরকার। যার মধ্যে অন্যতম কন্যাশ্রী ও রূপশ্রী প্রকল্প। কিন্ত কন্যাশ্রী রূপশ্রীর প্রভাবে আদৌ কি উচ্চশিক্ষার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ছাত্রীরা? অন্যান্য জেলায় এর ফল সুদূর প্রসারী হলেও মুর্শিদাবাদের ক্ষেত্রে তেমনটা চোখে পড়ছে না বললেই চলে। কন্যাশ্রীর সুবাদে মেয়েরা শিক্ষিত হচ্ছে বটে কিন্তু উচ্চশিক্ষত হওয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাচ্ছে বিড়ি শ্রমিক, রাজমিস্ত্রী ঘরের ছেলেমেয়েদের।

কদিন পরেই মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কন্যাশ্রীর সুফলেই এবার মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বসছে রেকর্ড সংখ্যক ছাত্রী! ঘটা করে যখন মিডিয়ায় এই প্রচার হচ্ছে তখন প্রশ্ন উঠে আদৌ কি মুর্শিদাবাদের মতো বিড়ি শ্রমিক, রাজমিস্ত্রি অধ্যুষিত এলাকার মেয়েরা উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যাচ্ছে? না শুধুমাত্রই প্রচার? প্রচার যাই হোক না কেন বাস্তব টা কিন্তু সম্পূর্ণ উলটো। কন্যাশ্রীর সুবাদে মেয়েরা শিক্ষিত হচ্ছে বটে কিন্তু উচ্চশিক্ষিত হওয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাচ্ছে। এর পিছনে কোনো নির্দিষ্ট একটি কারণ নয়, বহুমুখী কারণ বিদ্যমান। মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জ ব্লকের পিছিয়ে পড়া গ্রাম চাচন্ড এর এক ছাত্রী  শাহনাজ খাতুন বলেন, আমাদের ব্লক বা এলাকা থেকে কাছাকাছি তো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই। কোনোরকমে উচ্চমাধ্যমিক কিংবা কষ্ট করে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করলেও ২০০ কিমি দুরত্বে গিয়ে সেখানে থেকে আমাদের মতো বিড়ি শ্রমিকের ঘরের মেয়েদের পাচ হাজার টাকা মাস খরচ করে মাস্টার ডিগ্রি করা সম্ভবপর হয়ে উঠে না। ফলে এত শিক্ষিত হওয়ার পরেও কদিন পর রাজমিস্ত্রি দের সাথে বাবা মা বিয়ে দিয়ে দেয়! আবার অন্যদিকে ভগবানগোলার ছাত্রীদের অভিযোগ, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিকের গন্ডি কোনোরকমে পার হয়ে কলেজে পড়ার ইচ্ছা থাকলেও ব্লকে কোনো কলেজ গড়ে উঠে নি। কুড়ি কিলোমিটার দুরত্বে গিয়ে পড়াশুনা করা আমাদের মতো নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়েদের মোটেও সম্ভব নয়। তাই মাঝপথেই আমাদের পড়া ছেড়ে দিতে হয়। বিড়ি শ্রমিক অধ্যুষিত সুতি ব্লকের এক ছাত্রী জানায়, আমাদের এলাকার প্রায় মানুষই বিড়ি শ্রমিকের কাজ করেন। মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিকের গন্ডি পেরিয়ে কোনোরকমে কন্যাশ্রী টাকা নেওয়ার আশায় কলেজে ভর্তি হয়। কিন্তু তারপরেই বাবা মা দারিদ্রতার কথা, পনের চিন্তাভাবনা করে আমাদের বিয়ে দিয়ে দেয়। ফলে আমাদের উচ্চশিক্ষিত হওয়ার আশায় ছায় পড়ে যায়।

শুধু গুটি কয়েক এই ব্লক গুলোতেই নয় জেলার সকল প্রান্তেরই প্রায় একই চিত্র লক্ষ করা যাচ্ছে। পারিবারিক দারিদ্রতা, নিরক্ষরতা, কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা, অল্প বয়সে বিয়ে সহ নানান সামাজিক সমস্যার কাছে মেধাবী ছাত্রীদের মেধাগুলো একটি নির্দিষ্ট জায়গা আসার পরেও তা বিকশিত হওয়ার সুযোগ না পেয়ে এভাবেই নস্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই জেলাবাসীর দাবি ঘটা করে শুধু কন্যাশ্রী রূপশ্রী নয়, ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় অতি জরুরী।