নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ: খাস মুর্শিদাবাদের বুকে জাতপাত। হিন্দু ও মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য চলছে আলাদা আলাদা মিডডেমিল রান্না! দুটি সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে  খাবার পরিবেশনও হচ্ছে পৃথক ভাবে। এমনই চিত্র ধরা পড়লো মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর মহকুমার সুতি থানার আহিরণ গ্রামপঞ্চায়েতের রামডোবা মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্র। ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়।


      জানা গেছে, সুতির আহিরণ রামডোবা মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্র মোট ছাএছাএীর সংখ্যা ৩২৯ জন। তার মধ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের ছাএছাএী রয়েছে ১২৪ জন। পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ের ছাএছাএীর সংখ্যা ১৯৫। মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রে মোট চারজন শিক্ষক ও একজন শিক্ষিকা রয়েছেন। একটি বিদ্যালয়ে একসঙ্গে ক্লাস  চললেও টানা দশ বছর থেকে মিডডেমিল রান্না হচ্ছে আলাদা আলাদা ভাবে। শুধু রান্নায় নয়, বিতরণ-খাওয়াদাওয়াও চলছে আলাদা আলাদা।


      এবিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রের শিক্ষক দীপক কুমার দাস জানান, এই নিয়ম চলছে ২০১০ সাল থেকে। রামডোবা গ্রামের ছাএছাএীরা অধিকাংশ মুসলিম। বসন্তপুরের ছাএছাএীরা হিন্দু সম্প্রদায়ের। এর আগে মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রে মিড ডে মিলের রান্না এক সঙ্গে হলেও মিড ডে মিলের রান্নার গোষ্ঠীর মহিলারা মহিলারা মুসলিম হওয়ায় আচমকা হিন্দু সম্প্রদায়ের ছাএছাএীরা তাদের রান্না খেতে অস্বীকার করেন। আপত্তি জানান অভিভাবকরাও। কিন্তু প্রধান শিক্ষক কথা না শোনায় এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে বেশ কিছুদিন স্কুলের মিডডেমিল খাওয়াও বন্ধ করে দেয়  হিন্দু সম্প্রদায়ের ছাএছাএীরা। বিষয়টি নিয়ে ব্লক প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জানানো হয়। অভিভাবক মিটিং ডাকা হলেও তাতেও রাজি না হওয়ায় বাধ্য হয়েই দুই সম্প্রদায়ের রাঁধুনি নিয়োগ করে আলাদা আলাদা ভাবে মিডডেমিল রান্নার ব্যবস্থা করা হয়।


     এবিষয়ে সুতি-১ ব্লকের বিডিও রবীন্দ্রনাথ বারুই একটি সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি শুনেই প্রধান শিক্ষক কে ডেকে একসাথে রান্নার নির্দেশ দিয়েছিলাম। তার পর আর খোঁজ নেওয়া হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।