টিডিএন বাংলা ডেস্ক: মকর সংক্রান্তিতে গঙ্গাসাগরে স্নান সারলেন প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। মঙ্গলবার ভোরের আলো ফোটার আগে থেকে সারাদিন স্নান পর্ব চলতে থাকে। রাত থেকেই ভিড় ক্রমশই বাড়ছিল সাগরের পাড়ে। ভোরের আলো ফুটতেই সাগরের জলে একসাথে ডুব দিলেন দেশের নানা অংশের মানুষ। স্নান সেরে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে মানুষ ঘরমুখী হতে শুরু করেন। বেলা যত বেড়েছে সৈকত, মেলা প্রাঙ্গণ ক্রমশই মানুষের সেই ভিড় ফাঁকা হয়েছে। এদিন পর্যন্ত গঙ্গাসাগর মেলায় আসা চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। এদের মধ্যে চেমাগুড়িতে ১জন ও গঙ্গাসাগরে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মেলায় এসে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এখনও এমন মানুষের সংখ্যা ৩৭।

ভোর প্রায় ৪টে। সাগর সৈকতের আকাশ তখন কুয়াশাচ্ছন্ন। বৈদ্যুতিক আলোয় সমূদ্র সৈকত ঝলমল করছে। সাগর স্নানকে ঘিরে মানুষের ব্যস্ততা। জলে, পাড়ে মানুষের ভিড়। বিভিন্ন রাজ্য থেকে দলবদ্ধ হয়ে আসা মানুষেরা স্নান সেরে সামনে থাকা দলপতির নিশানকে লক্ষ্য করে এগিয়ে চলেছেন। মেলা শুরুর প্রথম দিন থেকেই এবারের গঙ্গাসাগর মেলায় মানুষের আনাগোনা হলেও অন্যান্য বছরের মতো ভিড়ের চাপ তেমন ছিল না। অর্ধ কুম্ভর টানে এবারের সাগর মেলায় জনসমাগম নিয়ে মেলায় আসা মানুষদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়। স্নানপর্ব নিরাপদে শেষ হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন জেলা প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিকরা।

ভিড়ে এদিন দুপুর পর্যন্ত নিখোঁজ ২২০০ জন মানুষ মাইক্রোফোনের ঘোষণায় তাঁরা তাঁদের পরিজনকে খুঁজে পেয়েছেন। ১০ জন পরিজনদের হারিয়ে রয়েছেন মেলা প্রাঙ্গণে। মেলা শেষে তাঁদেরকে ঘরে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। শিলিগুড়ি থেকে দুই বন্ধু এসেছেন মেলায়। সকালে স্নান সেরে ওঠার পর কুমার শংকর গুপ্তা তাঁর বন্ধু ৫৫ বছরের সঞ্জয় বারিককে খুজে পাননি। বন্ধুকে দেখতে না পেয়ে তথ্য কেন্দ্রে হাজির হয়েছেন সঞ্জয় বারিক নিজেই। মাইক্রোফোনের ঘোষণায় দু’জন দু’জনকে ফিরে পেয়েছেন। ফিরে পাওয়ার অনাবিল আনন্দে দুজনই চোখের জল ধরে রাখতে পারছিলেন না। উদভ্রান্তের মতো সৈকতের ধারে ঘুরছিলেন পাটনা থেকে আসা ৮০ বছরের লালবাতি দেবী। ভাইপো তাঁকে নিয়ে এসেছেন মেলায়। এদিন সকালে সৈকতের ধারে তাঁকে বসিয়ে রেখে সে চলে গেছে। যাত্রীরাই তাঁকে পৌঁছে দিয়েছেন মেলা প্রাঙ্গণের তথ্য কেন্দ্রে। এ যেন গোলকধাঁধা। প্রতিবারই মেলায় এসে হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা যেমন ঘটে তেমনই সাগর পাড়ে ভিড়ের মাঝে প্রবীণ মানুষদের ফেলে রেখে স্বজনদের চম্পট দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। পাটনার লালবাতি দেবী তেমনই একটা উদাহরণ। বয়সের ভারে ন্যুব্জ প্রবীণ মানুষটির আস্তানা এখন বজরং পরিষদে।

মেলাকে ঘিরে বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন পেশায় রোজগার করতে এসেছেন বহু মানুষ। বিহারের শোনপুর থেকে এসেছেন রাজেন্দ্র প্রসাদ। মধ্যরাত থেকে গোরু টেনে নিয়ে ঘুরছেন সৈকতে। তাঁর কথায়, গঙ্গাসাগরের স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে ২হাজার টাকায় গোরু ভাড়া নিয়েছেন। এবার পশরা তেমন জমেনি। তাঁর মতোই পাঁচ হাজার মানুষ রোজগেরের আশায় গোরু নিয়ে ঘুরছেন। বৈতরণী পেরনোর বিশ্বাসে গোরুর লেজ ধরে টানতে দেখা গেল অনেককেই। মেলা প্রাঙ্গণ ফাঁকা হলেও সরকারিভাবে মেলা শেষের ঘোষণা করা হবে বুধবার রাতে। তারপর সাগর, নামখানার স্থানীয় মানুষ আসবেন এই ভাঙা মেলায়। কেনাকাটা চলবে। তার অপেক্ষায় রয়েছেন মেলা প্রাঙ্গণের অস্থায়ী দোকানদার ব্যবসায়ীরা।

Attachments area