নিজস্ব প্রতিনিধি, টিডিএন বাংলা, মালদা: হরিশ্চন্দ্রপুরে দেয়ার চলছে ভেজাল হলুদের রমরমা কারবার। প্রসাদনের নজরদারির অভাব রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।  সারা হরিশ্চন্দ্রপুর জুড়ে চলছে ভেজাল হলুদের রমরমা কারবার। না জেনে সাধারণ মানুষও এই হলুদ খোলা বাজার থেকে কিনে খাচ্ছেন। ফলে প্রায়শই পেটের রোগ সহ নানারকম অসুখে আক্রান্ত হচ্ছে এলাকাবাসী। সম্প্রতি হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নং ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের কাছে এই নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ দায়ের করেছেন।


স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ হরিশ্চন্দ্রপুর থানার  ইসলামপুর তিল ডাঙ্গী রামপুর ইসলামপুর মালিয়র প্রভৃতি এলাকায় বিভিন্ন মিলে হলুদ গুঁড়ো করা হচ্ছে। এর সঙ্গে মেলানো হচ্ছে ধানের তুষের গুড়া চালের গুড়া আটা ও বিভিন্ন রকম রাসায়নিক রং। এই বিষাক্ত ও ভেজাল হলুদ খোলাবাজারে ও বিভিন্ন হাটে দেদার বিক্রি হচ্ছে। দরিদ্র থেকে মধ্যবিত্ত সাধারণ মানুষ এই হলুদ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। হলুদ দিয়ে রান্না হচ্ছে। হলুদে ভেজাল আছে কিনা তাও খালি চোখে বোঝা যাচ্ছে না। এই হলুদ দিয়ে রান্না খেয়ে প্রায় পেটের অসুখে ভুগছেন এই সমস্ত এলাকার শিশু থেকে বয়স্ক ব্যক্তিরা। প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে হরিশ্চন্দ্রপুর এর বাজারে ঢালাও বিক্রি হচ্ছে এই ভেজাল হলুদ। প্যাকেট হলুদের থেকে দামে কম হওয়াতে সাধারণ মানুষ এই হলুদের প্রতি ঝোঁক বাড়াচ্ছে।


হরিশ্চন্দ্রপুর হাটে খোলা হলুদ বিক্রি করতে আসা মইনুল হক নামে এক ব্যক্তি জানালেন, তিনি তার নিজের বাড়িতেই হলুদ পেশাই করে বিক্রি করেন। কোন মিল থেকে তিনি হলুদ কেনেন না। তার হলুদে কোন রকম ভেজাল নেই। বাইরে থেকে পেশাল করে আসা হলুদ এগুলোতে ভেজাল এর সম্ভাবনা বেশি থাকে।
রামপুর এলাকার এক হলুদ মিলের মালিক অতীশ সাহা জানাচ্ছেন আগে তার মিলে হলুদের সঙ্গে অন্য কিছু মেশানো হলেও এখন তিনি বিশুদ্ধ হলুদ তৈরি করেন এখন হলুদে আর ভেজাল দ্রব্য মেশানো হয় না।


এলাকার এক মুদি ব্যবসায়ী উৎপল সরকার জানালেন তিনি তার দোকানে খোলা হলুদ রাখেন না। তার দোকানের গ্রাহকরা খোলা হলুদ নিতে চান না। ওই খোলা হলুদে প্রচুর পরিমাণে ভেজাল মেশানো হয়। তাই তিনি নামি প্যাকেট জাত এবং ব্র্যান্ডেড কোম্পানির হলুদ বিক্রি করে থাকেন। এই হলুদ দামে বেশি হলেও এর থেকে কোন রোগের আশঙ্কা থাকে না।


হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকা জুড়ে বিভিন্ন বিদ্যালয় মধ্যাহ্নভোজন রান্নাতেও হলুদ ব্যবহার হয়ে থাকে। ব্লক মিড-ডে-মিল দপ্তর থেকে খোলা মসলায় রান্না করতে বিধি-নিষেধ জারী করা হয়েছে। তাই এলাকার বিভিন্ন স্কুলে এখন প্যাকেট মসলা দিয়ে রান্না হয়। এ বিষয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর হাইস্কুলের মিড ডে মিলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক মোস্তাক আহমেদ জানালেন, তাদের বিদ্যালয় মধ্যাহ্নকালীন রান্না হয় তা সম্পূর্ণ প্যাকেটজাত মসলা দিয়ে তৈরি করা হয়। প্রতিটি মশলা গুণমান সম্পন্ন। ছাত্রদের শরীর স্বাস্থ্য নিয়ে তারা খুব সচেতন। তাই প্রতিদিনই খুব হাইজেনিক ভাবে মিড ডে মিলের রান্না তৈরি করা হয়।


এ প্রসঙ্গে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ব্লক স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডাক্তার অমল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন মূলত হলুদে যদি চালের গুঁড়ো আটায় সব মেশানো হয় তাহলে পেটের অসুখের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে আর যদি ক্ষতিকর বিষাক্ত রঙ মেশানো হয় তাহলে ক্যান্সার আলসার ইত্যাদিও হতে পারে। কারসিনোজেনিক রং মেশালে মানবদেহে এই হলুদ মারাত্মক ক্ষতি করে। প্রশাসনকে এ ব্যাপারে নজরদারি চালানো উচিত।


হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকার রাম পুরের বাসিন্দা মেরাজুল ইসলাম শেখ মহবুল হক বলেন, এই সমস্ত খোলা হলুদে চালের গুঁড়ো ধানের তুষ বিভিন্ন বিষাক্ত রং মেশানো হচ্ছে। এগুলো সরাসরি পেটে গিয়ে বাড়ির শিশু থেকে বয়স্ক লোক পেটের অসুখে ভুগছেন সারাবছর। এ বিষয়ে প্রশাসনকে সজাগ হতে হবে এগুলো অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন। ঘটনা প্রসঙ্গে হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নং ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক অনির্বাণ বসু ক্যামেরার সামনে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।