সামাউল্লাহ মল্লিক, টিডিএন বাংলা, কলকাতা : ফিফা-র দ্বারা আয়োজিত যুব বিশ্বকাপের মতো বিশ্বমানের আসরকে মাতিয়ে রাখতে সেজে উঠেছে সল্টলেক স্টেডিয়াম। রাজ্যের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতরও মাঠের সৌন্দর্যায়নে সজাগ। আর সেই সৌন্দর্যায়ন বাড়াতে স্টেডিয়ামের উদ্বোধক জ্যোতি বসুর নামের ফলক সরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামের ফলক বসানো হয়েছে।

যা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, নিন্দার ঝড় উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সর্বত্র। অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সস্তা প্রচার পেতে চায়ছেন। মূলত সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের পোস্টের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীকে একহাত নিয়েছেন নেটিজেনরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এহেন কাজকে ধিক্কার জানিয়েছে বামেরাও।

ভারতে প্রথমবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ এই বিশ্বকাপের ফাইনাল সহ বেশ কিছু ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে সল্টলেক স্টেডিয়ামে৷ রাজ্য সরকার ১২০ কোটি টাকা খরচ করে সংস্কার করেছে সল্টলেক স্টেডিয়ামের৷ ভোলই বদলে গেছে যুবভারতীর৷ আর এখানেই শুরু হয়েছে বিতর্ক৷

 

 

সিপিএমের তরফ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, সংস্কারের পর সরিয়ে ফেলা হয়েছে জ্যোতি বসুর নামাঙ্কিত ভিত্তিপ্রস্থর ফলক৷ এই অভিযোগ নিয়ে টুইটও করেছেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র৷ তৃণমূলের পাশাপাশি তিনি এই চক্রান্তের পিছনে আরএসএসকেও দায়ী করেছেন৷

উল্লেখ্য, ১৯৮৪ সালের ২৫ জানুয়ারি সেই সময় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে তৈরি সল্টলেক স্টেডিয়ামের উদ্বোধন হয়। মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু ও ক্রীড়ামন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তীর তত্বাবধানেই মূলত তৈরী হয়েছিল এই স্টেডিয়াম।

বাম আমলের ৩৪ বছরে কোনও দিন বিধাননগরের নাম পরিবর্তন করে জ্যোতি বসুনগর বা বিধান রায়ের মূর্তি সরিয়ে বুদ্ধ ভট্টাচার্যের মূর্তি বসেনি।

কিন্তু আজ আগের সরকারের তৈরি উড়ালপুলে নিজের নামে ফলক বসাতে বিন্দু মাত্র কুণ্ঠা বোধ করেন না কেউ কেউ। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্বপ্নের নন্দনে বসে “নব কলেবরে উদ্বোধন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের”। বামেদের আমলে তৈরি বর্তমান নবান্নতেও বসেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামের ফলক। সেই ঐতিহ্য বজায় রেখে সল্টলেক স্টেডিয়ামেও বসেছে ‘স্টেডিয়ামের নব কলেবর উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়’ লেখা ফলক।

 

 

অন্যদিকে বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে গোটা সল্ট লেক জুড়ে হকার উচ্ছেদের বিরোধিতা করেছে বিজেপি ও সিপিএম৷ হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে পথে নেমেছে বেশ কিছু মানবতাবাদী সংগঠনও৷ মানবতাবাদী সংগঠন এপিডিআর -এর তরফ থেকেও বিধাননগর জুড়ে হকার উচ্ছেদের তীব্র প্রতিবাদ করা হয়েছে৷ গড়ে উঠেছে হকার উচ্ছেদ সংগ্রাম কমিটি৷

ফিফার টাকায় স্টেডিয়ামের আধুনিকীকরণের সব কৃতিত্ব নিতে চায় রাজ্য সরকার। আর সেই প্রচারও চলছে জনগণের টাকায়। যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় রসিকতা ও নিন্দার বন্যা বইছে।

ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস দাবি করছেন, বিষয়টা তাঁর নজরে পড়েনি। তিনি বলেছেন, ‘‘সংস্কারের কাজ দেখভাল করছিলেন পূর্ত দফতরের আধিকারিকেরা। তাঁদের কাছ থেকে খোঁজ না নিয়ে এই বিষয়ে মন্তব্য করতে পারব না।’’ (তথ্যসূত্র : বিশ্ব বাংলা, কলকাতা ২৪/৭)