টিডিএন বাংলা ডেস্ক : মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু উন্নয়ন নিয়ে মিথ্যা ঢাক পেটানোর অভিযোগ আনল সিপিএম। আর এই অভিযোগ করতে গিয়ে তারা মমতার জমানায় বিধানসভায় পেশ হওয়া রিপোর্টকেই হাতিয়ার করেছে। প্রসঙ্গত, সংখ্যালঘু উন্নয়ন বিষয়ক দপ্তরটি স্বয়ং মমতার হাতেই রয়েছে।
সংখ্যালঘু উন্নয়ন নিয়ে মমতার দাবিকে নস্যাৎ করার জন্য বুধবার আলিমুদ্দিনে সাংবাদিক বৈঠক ডাকেন দলের পলিটব্যুরো সদস্য তথা মুখপাত্র মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, সম্প্রতি রাজ্য বিধানসভায় সংখ্যালঘু উন্নয়ন বিষয়ক দপ্তরের স্ট্যান্ডিং কমিটি ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষের উপর রিপোর্ট পেশ করেছে। সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওই বছরে তৃণমূল সরকার সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তরের জন্য বাজেটে বরাদ্দ করেছিল ৩ হাজার ১১২ কোটি টাকা। কিন্তু আদতে বরাদ্দের পরিমাণ এক হাজার কোটি টাকা কমে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল ২ হাজার ২২৪ কোটিতে। এর মধ্যে আবার ১ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা ছিল পূর্ব মঞ্জুরিকৃত অর্থ। যার মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের নানা অনুদান ও ঋণ রয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা হল, এই পরিমাণ অর্থের মধ্যে মাত্র ১৯৭ কোটি টাকা খরচ করতে সক্ষম হয়েছে মমতাদেবীর সরকার। এই সরকারের আমলে সংখ্যালঘু উন্নয়নের টাকা যে ঘুরপথে শাসক দলের লোকজনের পকেটে চলে যাচ্ছে, সেটা ২০১৪-১৫ সালের ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডিং কমিটির রিপোর্ট বিশ্লেষণ করলেই স্পষ্ট হবে। এই রিপোর্টেই সংখ্যালঘু বেকারদের স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য বিভিন্ন ভুয়ো ট্রেনিং সংস্থার হদিশের কথা মেনে নেওয়া হয়েছে। এমনকী, এই হদিশহীন সংস্থাগুলিকে কাজের বরাত দিয়ে নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ৪০ শতাংশ অগ্রিম ধরানো হয়েছে। এভাবে বেকারদের আশা-আকাঙ্খার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলে বিধানসভার কমিটিই মন্তব্য করেছে। এরপর কোন মুখে মুখ্যমন্ত্রী সংখ্যালঘুদের উন্নয়ন নিয়ে ঢাক পেটান?
সেলিম বলেন, অনেক দিন ধরে প্রচারমাধ্যমের দৌলতে সংখ্যালঘুদের উন্নয়নের ফানুস ওড়াচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাম আমলের তুলনায় এই জমানায় সংখ্যালঘুদের কোনও বাড়তি আর্থ-সামাজিক উন্নতি হয়নি। সর্বোপরি, বহু খাতে শুরু হয়েছে চরম দুর্নীতি। মাদ্রাসা শিক্ষকদের আট হাজার পদ এখনও শূন্য রয়েছে। যাদের নিয়োগ করা হয়েছে তার পিছনে রয়েছে টাকার খেলা। যোগ্যদের বাদ দিয়ে অযোগ্য ও বয়সসীমা উত্তীর্ণ হওয়া লোকজনকে নিয়োগ করা হয়েছে টাকার বিনিময়ে। এসব করার জন্যই মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন তুলে দেওয়া হয়েছে। সিপিএমের শীর্ষ নেতা মমতাকে উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, রেলমন্ত্রী থাকাকালীন গার্ডেনরিচে সংখ্যালঘু নার্সিং কলেজ বা ফুরফুরাশরিফে রেললাইন তৈরি এবং রাজ্যের ক্ষমতায় এসে ভাঙড়ে সংখ্যালঘু মেডিকেল কলেজ নির্মাণের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ভোট কুড়োতে, সে সবের কী হল?
এদিকে, গবাদি পশুর প্রকাশ্য কেনাবেচা নিয়ে কেন্দ্রের নয়া ফরমানের তীব্র বিরোধিতা করলেও রাজ্যে সিপিএম অবশ্য এখনই রে রে করে রাস্তায় নামতে চাইছে না। (সৌজন্যে-বর্তমান)