টিডিএন বাংলা ডেস্ক: জনবিরোধী মোদী সরকারের সবচেয়ে বড় স্তাবক এবং প্রধান মিত্র এরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর সরকার। মঙ্গলবার এরাজ্যে ধর্মঘটকে মোকাবিলায় তৃণমূল দল ও সরকারের মরিয়া চেষ্টাতেই এটা আরো প্রমাণিত হলো। এদিন সি পি আই (এম) রাজ্য সম্পাদক সূর্য মিশ্র একথা বলেছেন। তিনি এদিন বলেন, বুধবারও দেশের অন্য প্রান্তের সঙ্গে এরাজ্যে ধর্মঘট হবে। আমরা আগেই বলেছি, দু দিনের ধর্মঘট মানে দু দিনই,৪৮ঘন্টা মানে ৪৮ঘন্টাই। বাধা দিতে এলে প্রত্যাঘাত হবে, ইট মারলে পাটকেল খেতে হবে।

এদিন ১৭টি বামপন্থী ও বাম সহযোগী দলের পক্ষ থেকে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুও বলেন, এরাজ্যেও ৪৮ঘন্টাই সাধারণ ধর্মঘট হবে। কেন্দ্রের মোদী সরকারের শ্রমিকবিরোধী,জনস্বার্থবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন ও শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশনগুলির ডাকা এই ধর্মঘটে এরাজ্যের মানুষের ব্যাপক ও স্বতঃস্ফূর্ত সাড়ার জন্য অভিনন্দন জানান বিমান বসু ও সূর্য মিশ্র। নেতৃবৃন্দ বলেন, বুধবার ধর্মঘটের অন্যান্য দাবির সঙ্গে এদিন যাঁদের বিনা প্ররোচনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁদের নিঃশর্ত মুক্তি এবং বিভিন্ন এলাকায় ধর্মঘটের সমর্থনে মিছিলের ওপর আক্রমণকারীদের শাস্তির দাবি যুক্ত হবে।

এদিন সূর্য মিশ্র বলেন, রাজ্যের তৃণমূল সরকার ব্যাপক হামলা, আক্রমণ করা সত্ত্বেও মঙ্গলবার রাজ্যের সবকটি জেলাতেই ধর্মঘট ব্যাপক হয়েছে। সত্তর দশকের পর গত ৪০বছরে এরকম আক্রমণের মুখে দাঁড়িয়েও ধর্মঘটে যেরকম সাড়া পাওয়া গেছে, তা নজিরবিহীন। মিশ্র বলেন, যা খবর পাওয়া যাচ্ছে কেন্দ্রের শাসকদল যেসব রাজ্যে আছে,তাদের থেকেও ধর্মঘট মোকাবিলায় আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিয়েছে এরাজ্যের তৃণমূল সরকার। এরথেকেই প্রমাণিত, কেন্দ্রে জনবিরোধী নিচ্ছে যারা, সেই বিজেপি-র সবচেয়ে বড় মিত্র এরাজ্যের তৃণমূল সরকার। এই ধর্মঘটে প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে, কে কোনদিকে আছে!

মিশ্র বলেন, গোটা রাজ্যে এক হাজারের বেশি ধর্মঘট সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বহু জায়গায় পুলিশ লাঠি চালিয়েছে, তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা আক্রমণ করেছে। আমাদের শতাধিক কর্মী আহত হয়েছেন। অধিকাংশ জায়গায় পুলিশ ও তৃণমূল যৌথভাবে আক্রমণ চালিয়েছে। আমাদের পার্টি অফিস দখল করা হয়েছে। তিনি বলেন, অনেক জায়গায় আক্রমণ করতে এলে আমাদের প্রতিরোধের মুখে পড়ে। তখন পুলিশ তাদের রক্ষাকর্তা হিসেবে এগিয়ে এসেছে। তৃণমূলের আক্রমণের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে সেখানে আক্রমণ হয়েছে, থানায় অভিযোগ না নেওয়ায় ফিরে পার্টি অফিসে এলে সেখানেও আক্রমণ হয়েছে। তারপরেও পুলিশ আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে, গ্রেপ্তার করেছে, মামলা করেছে।

সূর্য মিশ্র বলেন, তৃণমূল সরকার সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করেও ধর্মঘট ব্যর্থ করতে পারেনি। বেসরকারী বাস অধিকাংশ নামেনি, অনেক জায়গায় এমনও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে যে ৪০লিটার তেল দিচ্ছি, বাস চালাও। তা সত্ত্বেও খুবই কম চলেছে, চললেও যাত্রী ছিলেন নগণ্য। অতিরিক্ত সংখ্যায় সরকারী বাস চালানো হলেও সবাই দেখেছেন যে অন্যান্য দিনের তুলনায় মানুষ খুবই কম ছিল। বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ও তৃণমূলীরা জোর করে দোকান খুলিয়েছে, সেগুলোতেও ক্রেতা খুবই কম ছিল। পরীক্ষার্থী ছাড়া স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রী ‌আসেনি। মোটের ওপর, মোদী সরকারের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে ডাকা এই ধর্মঘটে সাধারণ মানুষের ব্যাপকতম অংশের সমর্থন ছিল। তিনি বলেন, বুধবারও সর্বাত্মক ধর্মঘট হবে। গণশক্তি