সামাউল্লাহ মল্লিক, টিডিএন বাংলা, পূর্ব মেদিনীপুর : পূর্ব মেদিনীপুরের মাজনা ট্রেকার স্ট্যান্ডে অনুষ্ঠিত হল এক বিশাল প্রকাশ্য সমাবেশ। ছাত্র সংগঠন স্টুডেন্টস ইসলামিক অর্গানাইজেশন অফ ইন্ডিয়া (এসআইও) পশ্চিমবঙ্গ শাখার পক্ষ থেকে ‘ফ্যাসিবাদের প্রতিরোধ, মানবীয় মর্যাদার পুনরুদ্ধার’ শীর্ষক এই প্রকাশ্য সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। এই সমাবেশ থেকে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের ডাক দিলেন জামায়াতে ইসলামী হিন্দ পশ্চিমবঙ্গ শাখার রাজ্য সভাপতি মুহাম্মদ নূরুদ্দীন। এদিন তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রিয় জন্মভূমি ভারত সাম্প্রদায়িক শক্তি বা হিন্দুদের দেশ না, বরং এটা হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের দেশ। এগিয়ে এসো যুব সমাজ, কেবলমাত্র তোমরাই এই ঐক্যের কাজ করতে পারবে।’

এদিনের সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসআইও-র কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক খালিক আহমেদ খান। নিজ বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘মুসলিমদের আজ পিছিয়ে রাখা হচ্ছে। কিন্তু বর্তমান সময়ে তাঁদের আর পিছিয়ে রাখা যাবেন। টিপু সুলতানকে দেখুন। অবশেষে কর্ণাটকে তার জন্মজয়ন্তী পালন হচ্ছে। দেশের কৃষকদের, পিছিয়ে পড়াদের, সংখ্যালঘুদের পিছিয়ে রাখা হচ্ছে। এসআইও এই দুর্বল ও পিছিয়ে পড়াদের হয়েই লড়বে। তাঁদের শিক্ষা, জীবনযাপন নিয়েও কথা বলবে। তাই এসআইও ফ্যাসিবাদের প্রতিরোধ, মানবীয় মর্যাদার পুনরুদ্ধারে লড়াই চালিয়ে যাবে। দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থায় সমাজের সঙ্গে মিশে গিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। নিজে ভালো আছি ভেবে চুপ থাকলে দেশ বিপদে পড়বে। তাই যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে।’

প্রকাশ্য জন সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এসআইও তেলেঙ্গানা রাজ্যের রাজ্য সভাপতি লাইক আহমেদ খান। তিনি বলেন, ‘শয়তান হল প্রথম ফ্যাসিস্ট। মহান আল্লাহ যখন মানুষ সৃষ্টি করেছিলেন, তখন থেকেই সেই শয়তানের কাজ চলছে। শয়তান সেই কাজ কিয়ামত পর্যন্ত চালিয়ে যাবে। বর্তমান রাষ্ট্রগুলোই আসল ফ্যাসিজম চালাচ্ছে। যখন অপরাধ ন্যায় বলে বিবেচিত হবে, তখন বুঝতে হবে রাষ্ট্র ফ্যাসিস্ট হয়ে গেছে। হত্যা, গুম, অন্যায় কাজগুলি যখন ন্যায় বলে ঘোষণা করে দেওয়া হবে তখনই এটা মনে করে নিতে হবে। আজ ডেমক্রেসিকে ব্যবহার করে ফ্যাসিজম করা হচ্ছে। নাজিব ইস্যু, শিখ দাঙ্গা, গুজরাত দাঙ্গা, বাবরী ধ্বংস এসব ফ্যাসিস্ট থিওরির বড় অপরাধ। তাদের কাছে নাজিব নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা কোনও বড় ব্যাপার না। আমরা ডিগনিটি ফিরিয়ে আনার কাজ করব। আমরা আমাদের এজেন্ডা সেট করব। কাজ করে যাবো। ওরা ওদের কাজ করুক, আমরা আমাদের কাজ করি।’

এসআইও পশ্চিমবঙ্গ শাখার প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সারওয়ার হাসান এদিনের সভা থেকে বিজেপি ও গেরুয়া ব্রিগেডকে তুলোধনা করেন। তিনি বলেন, ‘বিজেপি ও আরএসএস হল ফ্যাসিবাদ। তারা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, নোট বাতিল ইত্যাদি দ্বিচারিতামূলক কাজ করে দেশকে গভীর বিপদের দিকে ঠেলে দিয়েছে। যুব-সমাজকে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এই দেশমে আমরা তিলে তিলে গড়েছি। অথচ আজ আমাদের বলা হয় দেশবিরোধী। বিজেপি, আরএসএসের লজ্জা নেই, ওরাই আসল দেশদ্রোহি। দেশ থেকে তাঁদের বিতাড়িত করতে হবে।’ এদিনের সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামি পূর্ব মেদিনীপুর শাখার জেলা সভাপতি রমজান আলী, এলাকার স্থানীয় কিছু সমাজসেবী সহ অনেকে।