মফিজুল ইসলাম, টিডিএন বাংলা : মিল্লি আল-আমীন কলেজ ফর গার্লসকে এখনও সংখ‍্যালঘু মর্যদা দেওয়া হয়নি। এর মধ্যেই ওই কলেজে পরিচালন সমিতি গঠন করা হয়েছে। এমনকি কলেজ পরিচালনার জন্য নিজস্ব ম‍্যানেজমেন্ট রুলস ও রেগুলেশন তৈরী করা হয়েছে। যা সম্পূর্ণ অবৈধ বলে জানাচ্ছে খোদ রাজ‍্য সরকারের উচ্চ শিক্ষা দফতর। গত ১৯ শে ডিসেম্বর কলেজে প্রতিষ্টিত সংস্থা মিল্লি এডুকেশনাল অরগানাইজেশনকে চিঠি দিয়ে এমনটাই জানানো হয়েছে সরকারের তরফে। এর ফলে তীব্র সংকটে মিল্লি আল-আমীন কলেজের ভবিষ্যৎ।

চিঠিতে জানানো হয়েছে, ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনির্ভাসিটি অ্যান্ড কলেজ (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন) অ্যাক্ট ২০১৭ এর ৪ নম্বর ধারার ২ নম্বর উপ ধারায় বলা হয়েছে আছে ,প্রতি সংখ্যালঘু মর্যদাপ্রাপ্ত কলেজর ক্ষেত্রে পরিচালন সমিতি নিজেরাই আইন তৈরি করতে পারে। তবে তার আগে কলেজের পরিচালন সমিতিকে সরকার অনুমোদিত হতে হবে। তাছাড়া মিল্লি কলেজ এখন সংখ্যালঘু মর্যদাপ্রাপ্ত নয়। এই অবস্থায় সরকারি অনুমোদন ছাড়া গঠিত পরিচালন সমিতি বৈধ বা আইনগত হিসাবে গন‍্য হবে না।

উল্লেখ্য, সংখ্যালঘু মহিলাদের উচ্চশিক্ষার জন্য একটি কলেজ তৈরি করে মিল্লি এডুকেশনাল অরগানাইজেশন। বাম আমলে সেই কলেজ জাতীয় সংখ্যালঘু থেকে সংখ্যালঘু মর্যাদার স্বীকৃতি পায়। কিন্তু বর্তমান সরকারের আমলে সাসপেন্ড হওয়া তিন অধ‍্যাপিকার মামলার জেরে ওই কলেজে সংখ্যালঘু মর্যাদা খারিজ করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। মিল্লি এডুকেশনাল অরগানাইজেশনের দাবি, হাইকোর্টের রায়কে চ‍্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিমকোর্টে মামলা করা হয়। সুপ্রিমকোর্ট সংখ্যালঘু মর্যাদা ফিরিয়ে দিয়েছে। স্বাভাবিক ভাবে সংখ্যালঘু মর্যাদাপ্রাপ্ত কলেজ হিসেবে পরিচালিত হতে কোনো বাধা নেই মিল্লি কলেজের ক্ষেত্রে। তারপরেও সেই রায়কে সামনে রেখে নতুন করে পরিচালন সমিতি গঠন করে মিল্লি এডুকেশনাল অরগানাইজেশন। এর পর কলেজ ম‍্যানেজমেন্ট রুলস অ্যান্ড রেগুলেশন তৈরি করবে নতুন কমিটি। তা অনুমোদনের জন্য রাজ‍্য সরকারের কাছে পাঠানো হয় গত মে মাসে। কিন্তু তাতে স্বীকৃতি না দিয়ে সরকার জানিয়েছে,এই কলেজ সংখ্যালঘু মর্যাদাপ্রাপ্ত নয়। সুতরাং কলেজের নতুন পরিচালন সমিতি অবৈধ। সরকারের এই চিঠি ঘিরে জোরালো বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে মিল্লি এডুকেশনাল অরগানাইজেশনের সংখ‍্যালঘু দাবি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ওই সংস্থার সহ-সভাপতি তথা তৃণমূল কাউন্সিলর আমিরুদ্দিন ববি বলেন,’আমাদের কাছে সুপ্রিমকোর্টের কপি আছে। যেখানে পরিস্কার বলা হয়েছে, মিল্লি কলেজের সংখ্যালঘু মর্যাদা ফিরিয়েও দেওদা হয়েছে। আমরা সরকারকে সেটা জানিয়ে, নতুন ম‍্যানেজিং কমিটি গঠন করে গঠন করে ম‍্যানেজমেন্ট রুলস অ্যান্ড রেগুলেশন তৈরি করেছি। কিন্তু সরকার এখনও কিছু জানায়নি। আমরা শীঘ্রই ম‍্যানেজিং কমিটিকে নিয়ে বৈঠক করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’ প্রশ্ন হচ্ছে, সুপ্রিমকোর্ট যদি সংখ্যালঘু মর্যাদা ফিরিয়ে দেয়,তাহলে নতুন করে আবার ম‍্যানেজমেন্ট রুলস অ্যান্ড রেগুলেশন তৈরি করতে হল কেন? কেনই বা সরকারের কাছে সংখ‍্যালঘু মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আবেদন করতে হচ্ছে? সুপ্রিমকোর্ট সংখ‍্যালঘু মর্যাদা ফিরিয়ে দিলে,কলেজ ফের আগের নিয়মেই তো চলতে পারে। তারজন্য সরকারের কাছে ম‍্যানেজমেন্ট রুলস অ্যান্ড রেগুলেশনের নতুন খসড়া পাঠানোর কী প্রয়োজন ? এই সমস্ত প্রশ্নের সঙ্গে সহমত পোষণ করেন নতুন পরিচালন সমিতির সভাপতি মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন,’মিল্লি কলেজ সংখ্যালঘু মর্যদাপ্রাপ্ত। হাইকোর্ট সেটা খারিজ করলেও সুপ্রিমকোর্ট সেটা ফিরিয়ে দিয়েছে। সুতরাং, কলেজ আগের অবস্থায় চলতে পারে। তারপরেও কেন এত জটিলতা বুঝতে পারছি না।’ সরকার যদি কলেজের সংখ্যালঘু মর্যাদার স্বীকৃতি না দেয়, তাহলে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে সামনে রেখে সরকারের চিঠিকে চ‍্যালেঞ্জ করে কেন মামলা করা হচ্ছে না,তা নিয়েও কলেজ প্রতিষ্টিত সংস্থার অভ‍্যন্তরে প্রশ্ন করতে উঠেছে। সূত্রে খবর,তৃণমূল নেতাদের দ্বারা ওই সংস্থা পরিচালিত হওয়ার কারনে সরকারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছে না। আপসে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। ফলে কলেজের অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে এগোচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে অদূরে ভবিষ্যতে কলেজের ঝাঁপ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও করেছেন পরিচালন সমিতির সদস্যরাই। (সূত্র: দিন দর্পন)