নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ: বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ভারতরত্নে ভূষিত হয়েছেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। বিদেশমন্ত্রী থেকে অর্থমন্ত্রী দীর্ঘ প্রায় চার দশক কেন্দ্রে মন্ত্রী থাকার সুযোগ পেয়েছেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান এই নেতা। হয়েছেন রাষ্ট্রপতিও। কিন্তু যেই মুর্শিদাবাদের মানুষ তাকে প্রথমবারের মতো লোকসভার সদস্য হিসেবে জয়ী করেছিলেন সেই মুর্শিদাবাদের জন্যই বা তিনি কি কাজ করেছেন তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে সোস্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন জেলাবাসীরাও। ৭০ লক্ষাধিক মানুষের বাস মুর্শিদাবাদে জেলায় একটিও বিশ্ববিদ্যালয় না থাকলেও তা নিয়ে কোনোদিন মুখ খুলেননি প্রণব মুখার্জি। স্বভাবতই দেশের শীর্ষ ব্যক্তিত্বের সম্মান পেলেও প্রণব মুখার্জির প্রতি ক্ষোভ বিরাজ করছে জেলাবাসীর মনে।

প্রণবের ভারতরত্ন পাওয়ার সাথেই পিছিয়ে পড়া মুর্শিদাবাদ জেলার বিশ্ববিদ্যালয় না থাকার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরেছেন গবেষক,ছাত্রনেতা থেকে শুরু করে আইনজীবী, বুদ্ধিজীবীরাও। পিতা এবং পুত্র দুজনেই জঙ্গিপুরের মোট চার বারের সাংসদ হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি নিয়ে সংসদে কোনোদিন আওয়াজ নজরে পড়েনি জেলাবাসীর। রাষ্ট্রপতি হওয়া তো বটেই বৃহস্পতিবার ভারতরত্নে ভূষিত হওয়ার পর ফের একবার প্রণব মুখার্জির প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে উত্তাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া।

আবুতাহের আনসারী লিখেছেন, ” জঙ্গীপুরবাসী এখনো পর্যন্ত কোন বিশ্ববিদ্যালয় পেলনা কিন্তু প্রাক্তন এমপি প্রণব মুখোপাধ্যায় ভারত রত্ন সম্মান পেলো।” শাহজাদী পারভীন দুঃখ ও ক্ষোভের সুরে লিখেছেন, ” মাননীয় প্রণব মুখোপাধ্যায় ভারত রত্ন সম্মানে ভূষিত হলেন, আর জঙ্গিপুর বাসী আজ পর্যন্ত একটি বিশ্ব বিদ্যালয় পেলেন না।”

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে জঙ্গিপুরের এক বাসিন্দা হাসিবুল রহমান জানান,বড় আশা নিয়ে আমরা প্রণব মুখোপাধ্যায় কে জিতিয়েছিলাম। কিন্তু প্রত্যাশা মতো কোনো কাজই করেননি তিনি। আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে সামান্য অর্থ বরাদ্দ করলেও বিগত এক দশক থেকে আলীগড় ধুঁকে ধুঁকে মরছে। তা সচল করতে কোনোদিন উদ্যোগ নেননি প্রণব কিংবা অভিজিৎ। পাশাপাশি তিনি প্রণব মুখোপাধ্যায় এর ভারতরত্ন নিয়ে বলেন, এলাকার সাংসদ হিসাবে গর্ব লাগলেও জেলাবাসীর প্রাপ্য সম্মান ও বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কোনো কথা না বলায় তীব্র ক্ষোভ প্রশমিত হচ্ছে।