টিডিএন বাংলা ডেস্ক: গোটা দেশে নরেন্দ্র মোদি ঝড়ের সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গেও পদ্মজমি একে বারে পোক্ত হল। রাজ্যের তৃণমূলের দখলে ২২ টি আসন। মূলত মেরুকরণের ছাপ সর্বত্রই। নদীয়া জেলায় যখন মতুয়া ভোটে ভর করে রানাঘাট কেন্দ্রেটি বিজেপি বড় ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছে। উল্টো দিকে কৃষ্ণনগর লোকসভা আসনে  সংখ্যালঘু ভোটেই তৃণমূল বাজিমাত করল।এই কেন্দ্রে ৩৭ শতাংশ তৃণমূল ভোট।যার কারণে তৃণমূল কংগ্রেসের মহুয়া মৈত্র ৬৩,২১৮ ভোটে জয়লাভ করেছে। মহুয়া মৈত্রর প্রাপ্ত ভোট ৬,১৪,৮৭২ অপরদিকে, বিজেপির প্রার্থী কল্যাণ চৌবে পেয়েছেন ৫,৫১,৬৫৪ ভোট। অবশ্য সংখ্যালঘু অধ্যুষিত চাপড়া, পলাশিপাড়া, কালীগঞ্জ বিধানসভা এলাকায় বহু ভোটে লিড পেয়েছে তৃণমূল। চাপড়াতে ৪৯,৩৭২ ভোট, পলাশিপাড়ায় ৩৬,০৬০ ভোট, কালীগঞ্জ ৩৭,২২৮ ভোটে লিড দেয় তৃণমূল। এছাড়া নাকাশিপাড়ায় ৫০৮০ ভোটে লিড পেয়েছে তৃণমূল।উল্ল্যেখ, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভা এলাকাটি রাজের মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাসের। তার কেন্দ্র থেকে বিজেপি ৬৭২৫  ভোটে লিড পেয়েছে। কৃষ্ণনগর পুরসভার ২৪ টি আসনের মধ্যে ২৩ টিতে বিজেপি লিড দিয়েছে। একমাত্র সংখ্যালঘু অধ্যুষিত  ১৮ নং ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেস ১,১৪৫ ভোটে লিড দিয়েছে। তাছাড়া তেহট্টি বিধানসভাতে ২০৬১ ভোটে পিছিয়ে তৃণমূল। জেলার রাজনীতিবিদদের মতে সংখ্যালঘু ভোটের সবটাই তৃণমূলদের ঝুলিতে গিয়েছে।লক্ষণীয় বিষয় বিজেপি উত্থানের পরও শতাংশের হিসাবে তৃণমূলের ভোট বেড়েছে। ২০১৪ সালে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছিল ৩৫ শতাংশ।সেখান থেকে এবার ১০ শতাংশ ভোটে বাড়িয়ে ৪৫ শতাংশ করেছে। পাশাপাশি বিজেপিরও ভোট বেড়েছে ১৩ শতাংশ। ২০১৪ সালের ২৭ শতাংশ থেকে ২০১৯ সালে ৪০.৭ শতাংশে পৌঁছেছে বিজেপির ভোট।যদিও তলানিতে নেমে গেছে সিপিএম কংগ্রেসের ভোটের মার্জিন। কৃষ্ণনগর লোকসভায় ২০১৪ সালে সিপিএম পেয়েছিল ২৯ শতাংশ ভোট। এবার কমে মাত্র ৮.৮ শতাংশে ঠেকেছে। পাশাপাশি কংগ্রেসের ৬ শতাংশ থেকে কমে ২.৮ শতাংশ হয়েছে। বরাবরই কৃষ্ণনগরে সংখ্যালঘু ভোট বড় ফ্যাক্টর। আবারও তা প্রমাণ হল তৃণমূল প্রার্থী মহুয়া মৈত্রের জয়ের মধ্যে দিয়ে।সূত্রঃ কলম