টিডিএন বাংলা ডেস্ক: সরকারি অপদার্থতাকে ঢাকতেই মোদির ধর্ম্মীয় কুসংস্কারময় ভাষণ, এমনটাই অভিযোগ বাম সমর্থিত সংগঠন এসইউসিআই-এর। এসইউসিআই তাদের দলীয় মুখপত্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করে একথায় লেখা হয়। এসইউসিআই সাধারণ সম্পাদক প্রভাস ঘোষ এক বিবৃতিতে বলেন, মোদির এমন ভাষণ কোন বিজ্ঞান বা চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রেসক্রিপসান নয়। এটা হল অত্যন্ত সুচতুর পরিকল্পনা যাতে সরকারের প্রকৃত দায়িত্ব পালন থেকে দৃষ্টি সরিয়ে ধর্ম্মীয় কুসংস্কার এবং সরকার ও সরকারি দলের প্রতি অন্ধ আনুগত্যের দিকে সাধারণ মানুষকে পরিচালিত করা যায়। ঠিক এই উদ্দেশ্যেই কয়েকদিন আগে জনগণকে কাঁসর ঘন্টা বাজানো এবং হাততালি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

দলীয় মুখপত্র গণদাবীতে লেখা হয়, ‘‘করোনা (কভিড-১৯) ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিন বিপজ্জনকভাবে বাড়ছে। এও জানা গিয়েছে যে এই রোগের পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় কিটস্, পরীক্ষাকেন্দ্র, রোগীদের জন্য ভেন্টিলেটর এবং অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং ডাক্তার ও নার্সদের জন্য সুরক্ষার জন্য পিপিই প্রবল অভাব রয়েছে।

অন্যদিকে যে দেশে প্রতিদিন বহু মানুষ অনাহারে মারা যায়, সেখানে কোটি কোটি কর্মহীন শ্রমিক, পরিযায়ী মজুর, রিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও গৃহপরিচারিকা ক্ষুধার জ্বালায় চটফট করছে এবং অনেকেই কাজ ও খাদ্যের অভাবে অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে এটা বেদনাদায়ক যে এর ফলে অনাহারে মৃত্যুর সংখ্যা বহুগুন বেড়ে যাবে।

সাধারণ মানুষ আশা করেছিল এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৩রা এপ্রিল, ২০২০ প্রধানমন্ত্রী এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করবেন। কিন্তু পরিবর্তে তিনি যে ঘোষণা করলেন সেটা শুধু হতাশা জনক নয়, বাস্তবে এটা একটা নিষ্ঠুর পরিহাস। তিনি জনগণকে ৫ ই এপ্রিল রাত্রি ৯টায় ৯ মিনিটের জন্য ঘর অন্ধকার করে টর্চ লাইট বা মোমবাতি ইত্যাদি জ্বালিয়ে ঘরের দরজায় দাঁড়াতে বললেন।

তবে জনগণের জনগণের প্রতি আবেদন জানিয়ে গণদাবীতে লেখা হয়, সতর্ক থাকুন, বর্তমান গুরুতর পরিস্থিতির মোকাবিলায় যথার্থ বিজ্ঞান সম্মত পদক্ষেপ নিতে সরকারকে বাধ্য করুন।