শাহাজাদ হোসেন, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ : বেআইনি পোস্ত চাষ বন্ধের পর এবার নিষিদ্ধ গম চাষের ওপর নজরদারির জন্য ডোনের সাহায্য নিল রঘুনাথগঞ্জ প্রশাসন। রঘুনাথগঞ্জ থানার আইসি সৈকত রায়ের উদ্যোগে রঘুনাথগঞ্জ দুই নম্বর ব্লকের বড়শিমূল গ্রামপঞ্চায়েতের চাষের জমিতে ডোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হল। মুর্শিদাবাদ জেলার ৮০ হেক্টর জমিতে গম চাষ হত। জেলার গম চাষে মারণ রোগ দেখা দেওয়ায় আন্তর্জাতিক সমস্যার কথা বিবেচনা করে দুবছরের জন্য মুর্শিদাবাদ জেলায় গম চাষ সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। চাষিদের ক্ষতির কথা বিবেচনা করে রাজ্য সরকার গমের বিকল্প চাষের জন্য উৎসাহী দিতে মুসুর, ছোলা ও সর্ষে বীজ বিনা পয়সায় প্রদান করা হয়। এবিষয়ে চাষিদের সচেতন করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোরদার প্রচার অভিযানে নামা হয়। ব্লকে ব্লকে চাষিদের নিয়ে আলোচনা সভা, মাইকে প্রচার। হ্যান্ড বিল বিতরণ করা হয়।

 

প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে কোন চাষি চাষের জমিতে নিষিদ্ধ গম চাষ করতে না পারে সেবিষয়ে সজাগ জেলা পুলিশ প্রশাসন। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকা। যোগাযোগ হীন অধ্যূষিত এলাকায় বিভিন্ন চাষের জমিতে চাষিরা গোপনে নিষিদ্ধ গম চাষ করতে না পারে সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে এবার ডোনের ব্যবহার শুরু করল রঘুনাথগঞ্জ পুলিশ প্রশাসন। জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে চাষিদের নিয়ে শুরু হয়েছে কৃষি মেলা। মেলায় কৃষি আলোচনায় নিষিদ্ধ গম চাষ।

গমের মারণ ধলসা রোগ সম্পর্কে চাষিদের সজাগ করার পাশাপাশি চাষে রাসায়নিক সার প্রয়োগের ক্ষেএে সমস্যা সম্পর্কে ওয়াকিবহল করা হচ্ছে চাষিদের। এছাড়া আধুনিক কেঁচো সার জমিতে প্রয়োগের ফলে চাষিরা আর্থিক দিক দিয়ে লাভবান হবে। ফসলের গুণগত মান ভালো হবে। এবিষয়ে রাজ্য সহ কৃষি অধিকর্তা সঞ্জয় ভট্টাচার্য বলেন, গমের মারণ রোগ সম্পর্কে চাষিরা ওয়াকিবহল না হলে চাষের আড়ালে অনেক চাষি গোপনে নিষিদ্ধ গম চাষ করতে পারেন। তাই প্রচার অভিযানের সঙ্গে জমিতে নজরদারি করার খুবি প্রয়োজন।রঘুনাথগঞ্জের আইসি সৈকত রায় জানান, শুধু নিষিদ্ধ গম চাষ নয়। বেআইনি পোস্ত চাষ নির্মূলের জন্য ডোনের মাধ্যমে আমরা প্রতিটি পঞ্চায়েতের চাষের জমিতে নজরদারি শুরু করেছি। আইন ভঙ্গ করে কোন চাষি নিষিদ্ধ গম চাষ করে থাকেন ডোনের মাধ্যমে সেই তথ্য আমরা জানতে পারব। গম চাষ নষ্ট করে দেওয়া হবে। নিষিদ্ধ গম চাষ করার অভিযোগে চাষির বিরুদ্ধে আইন মোতাবেক কড়া ব্যবস্হা নেওয়া হবে। (সৌজন্যে -প্রতিদিন)