নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, বনগাঁ: বিভিন্ন ধর্ম ও দলের নেতাদের নিয়ে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল সারাভারত মতুয়া মহাসঙ্ঘের বনগাঁ ব্লক। এদিন ‘রাষ্ট্রের ধর্মনীতি’ শীর্ষক আলোচনায় ইসলাম ধর্মের প্রতিনিধি হিসাবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামী হিন্দের রাজ্য সভাপতি মুহাম্মদ নুরুদ্দিন।

জামায়াতে ইসলামীর ওই দায়িত্ত্বশীল বলেন বলেন, “রাষ্ট্রের ধর্ম হলো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা,জনগণের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। এই পৃথিবীতে ধর্মীয় রাষ্ট্র আছে আবার ধর্মহীন রাষ্ট্র আছে। রাষ্ট্রের একটাই কাজ হবে, স্রষ্টার নির্দেশ মেনে, জবাব দিহির চেতনা নিয়ে দেশের জন্য দিনরাত কাজ করা। এটাই রাষ্ট্রের ধর্ম। হ্যাঁ, রাষ্ট্র সব সময় সব ধর্মকে সম্মান করবে। সকল ধর্মের মানুষকে নিজের মনে করে চলা হলো রাষ্ট্রের ধর্ম। রাষ্ট্র যদি ইসলামের হয়, রাষ্ট্র যদি হিন্দুর হয়, রাষ্ট্র যদি খ্রিস্টানের হয় আর হিংসা ছড়ায় তবে সেটা রাষ্ট্রের ধর্ম নয়। ধর্মের দোহায় দিয়ে রাষ্ট্র দেশকে খতম করছে, মানুষের সাথে প্রতারণা করছে।”

মুহাম্মদ নুরুদ্দিনকে মতুয়া আদৰ্শ ছাড়াও হিন্দু ধর্মের বহু মানুষ প্রশ্ন করেন ইসলাম নিয়ে। তিনি সেই প্রশ্নের যুক্তিভিত্তিক জবাব দেন।
এদিন ‘রাষ্ট্রের ধর্ম নীতি’ শীর্ষক সভায় বিভিন্ন দল ও ধর্মের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।বিজেপির পক্ষে হিন্দু ধর্মের ওপর বক্তব্য রাখেন দলটির ধর্ম বিভাগের কনভেনর বিধু শাস্ত্রী।বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে আলোচনা করেন দুলাল মন্ডল। তৃণমূলের পক্ষে রাষ্ট্র নিয়ে কথা বলেন রতন ঘোষ। এদিন মতুয়া ধর্ম সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন ডঃ নিরঞ্জন কুমার ঘটক।

সভায় জুড়ি বোর্ড সেরা আলোচক হিসাবে মুহাম্মদ নুরুদ্দিনের নাম উল্লেখ করেন। জামায়াতে ইসলামী হিন্দের পক্ষ থেকে এদিন হিন্দু পন্ডিতদের মধ্যে পবিত্র কুরআনের বাংলা অনুবাদ তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত কুরআন কাছে না থাকায় সকলের হাতে কুরআন দিতে পারেনি জামায়াতে ইসলামী হিন্দ। বহু মানুষ কুরআনের জন্য আবেদন করেন।উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের দাওয়াত বিভাগের সম্পাদক মুহাম্মদ তাহেরুদ্দিন,অফিস সম্পাদক সাবির আলি প্রমুখ।
উল্লেখ্য, হরিচাঁদ ঠাকুরের ২০৬ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এদিন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সারাভারত মতুয়া মহাসঙ্ঘ। আয়োজকদের একজন মনোজ টিকাদার টিডিএন বাংলাকে বলেন, “রাষ্ট্র তার নীতি পালন করবে আর ধর্ম তার নীতি পালন করবে। ইসলাম ধর্মের প্রতিনিধি মুহাম্মদ নুরুদ্দিন সেরা আলোচক হয়েছেন। আমরা তাঁর কাছে তালাক, ভারতে মুসলিম শাসকদের নিয়ে প্রশ্ন করি।”