নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ : দুই হাতই অচল, পায়েও চলাফেরা করতে পারে না। স্কুলে যাতায়াত, ব্যাগ নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে নিজের শৌচকর্ম সবকিছুতেই অন্যের উপর ভরসা করে চলতে হয় তাকে৷ কিন্তু তারপরও সকল কে টেক্কা দিতে জোরদার প্রস্তুতি নিয়ে আজ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসছে সেই অক্ষম প্রতীবন্ধী মোকতার সেখ! পায়ে লিখেই এবছর মাধ্যমিকে বসছে সে।

দেখুন ভিডিওতে ক্লিক করে

বিড়ি শ্রমিক অধ্যুষিত সুতি দুই নম্বর ব্লকের প্রত্যন্ত এক গ্রাম লক্ষীপুরের বাসিন্দা রাজমিস্ত্রি ফানসুর সেখের ঘরে জন্ম মোক্তারের। মা শেফালি বিবি বিড়ি শ্রমিক। ফানসুর-শেফালির ঘরে পাচ সন্তানের মধ্যে সকলের ছোট সে। ছোট থেকেই পড়াশুনার প্রতি তার তীব্র জেদ থাকলেও প্রতিবন্ধিকতা একসময়ে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সেই বিপদের চরম মুহুর্তে মোকতারের পাশে সঙ্গী হয়ে দাঁড়ায় মা শেফালি বিবি। বেলা দশটা বাজলেই প্রতিদিন নিজের প্রতিবন্ধী ছেলেকে কোলেপিঠে করে নিয়ে গিয়ে স্কুলের গন্ডিতে পৌঁছে দিয়ে আসতেন তিনি। হাত অসাড় হওয়ার কারনে পা দিয়েই লিখতেন মোক্তার । মুখে উচ্চারণ ও পায়ে লিখেও সে স্কুলের মেধাবী ছাত্রদের পাল্লা দিতে শুরু করে। এভাবেই প্রাথমিকের গন্ডি পেরিয়ে হাইস্কুল পর্যন্ত পৌঁছে যায় সে। এধরনের প্রতিবন্ধী ছেলে দেখে প্রথম দিকে নিজেদের স্কুলে ভর্তিও নিতে চাইছিলেন না গোঠা এ আর রহমান হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু মায়ের অনুরোধে শেষ পর্যন্ত ভর্তি নিলেও তাকে প্রতিদিন তিন কিলোমিটার দুরত্বে রেখে যাওয়া,নিয়ে, যাওয়া চরম কস্টকর হয়ে দাড়িয়েছিলো মা শেফালি বিবির। সেসময় স্কুল কর্তৃপক্ষ এর পরামর্শে মোক্তারের বাড়ির পাশের একটি বেসরকারি স্কুলে পড়াশুনা শুরু করে সে। এভাবেই তার জীবন সংগ্রাম চলতে শুরু করে৷ পায়ে লিখলেও ব্যপক মেধার কারণে সহজেই সকলের এক প্রিয় বন্ধুতে পরিনত হয় মোকতার৷

নবম শ্রেণির গন্ডি পেরিয়ে দশম শ্রেণিতে পদার্পণ করেছে এই প্রতিবন্ধি ছাত্র। আজই মাধ্যমিক পরীক্ষাতে বসছে মোকতার। সকলের নজর এখন তার দিকেই।