নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ: পঞ্চায়েত পেরিয়ে লোকসভা ভোট শেষ। ঘোষণা হয়েও এখনও পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় চোখে দেখতে পাননি মুর্শিদাবাদবাসী। ২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা করা হলেও তার বাস্তবায়ন না হওয়ায় ছাত্র সমাজের পাশাপাশি ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে বৃদ্ধদের মনেও। জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় দেখেই মরার ইচ্চা প্রকাশ করলেও আদৌ দেখতে পাবেন কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেক বৃদ্ধ ব্যক্তিরাই।

মুর্শিদাবাদের ফারাক্কা ব্লকের বৃদ্ধ আশফাক হোসেন জানালেন, শুনেছি আমাদের জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় হবে। ছেলে নাতিদের আর দূরে পড়তে যেতে হবে না। কিন্তু কই এখনও তো দেখতে পেলাম না। মরার আগে কি আদৌ সেই বিশ্ববিদ্যালয় দেখতে পাবো? প্রশ্ন ওই বৃদ্ধের। ডোমকলের
সত্তরোর্ধ বৃদ্ধ শাজাহান আলী বলেন, স্বপ্ন ছিল এই জীবনে বিশ্ববিদ্যালয় দেখে যাবো। কিন্তু আজও পেলাম না। দুবছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা শুনেছি এখনও চোখে দেখতে পেলাম না। শুধু আশফাক হোসেনই নয়, জলঙ্গির বৃদ্ধ আইনুল হক, হরিহরপাড়ার এজাজুল হক, সুতির অমর দাস, বহরমপুরের কৌশিক সিংহ সকলেরই আক্ষেপ জেলায় স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয় দেখে মৃত্যু বরন করবো। কিন্তু রাজ্য সরকারের এই খামখেয়ালিপনায় এখনও গড়ে উঠলো না বিশ্ববিদ্যালয়। আদৌ দেখা হবে কি না তা নিয়ে সন্দিহান সকলে।

উল্লেখ্য, ৭৫ লক্ষ জনসংখ্যা বিশিষ্ট মুর্শিদাবাদ জেলায় একটিও পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় নেই। দীর্ঘদিন ধরে জেলাবাসী আন্দোলন করে আসলেও জেলার শিক্ষা আন্দোলন নিয়ে সরকারের কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই। ছাত্র আন্দোলনের চাপে পড়ে ২০১৮ সালের ২৮ শে ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা দিলেও এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। স্বভাবতই সরকারের বিশ্ববিদ্যালয় করার মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে নানা মহলে। জেলার প্রতি সরকারের এই দ্বিচারিতায় ক্ষুব্ধ জেলার আপামর জনতা। জলঙ্গী থেকে ফারাক্কা জেলার সর্বত্রই জনতার ক্ষোভে এবার যুক্ত হলো বৃদ্ধদের আক্ষেপ।