নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা: প্রকাশিত হয়েছে মাদ্রাসা বোর্ডের রেজাল্ট। এ বছর হাই মাদ্রাসা,আলিম ফাজিল ও মাধ্যমিক মিলে মাদ্রাসা বোর্ড থেকে মোট ৬৫৩৬১ পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে ছিল। তার মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ৪২৩৫১এবং ছাত্রের সংখ্যা ২৩০১২।শতকরা হিসাবে ছাত্রীর হার ৬৪.৭৯ শতাংশ। এবং ছাত্রের হার ৩৫.২১শতাংশ।

কলকাতার মাদ্রাসা বোর্ডের পরীক্ষায় ছাত্র ছাত্রীদের এই হার উদ্বেগ জনক। স্বাভাবিক ভাবে প্রশ্ন জাগে তাহলে কী মেয়েরা পড়াশোনায় এগিয়ে যাচ্ছে আর ছেলেরা অন্য কাজের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে?স্কুল মাদ্রাসায় সর্বত্র মেয়েদের এগিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে। এটা নিঃসন্দেহে সুখের খবর। কিন্তু ছাত্রী দের তুলনায় ছাত্রদের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসাটা চিন্তার বিষয় বৈকি।

কলকাতার বিশিষ্ট সমাজসেবী ও মুসলিম নেতা সৈয়দ জামিরুল হাসান বলেন,’ ছাত্রীদের তুলনায় ছাত্রদের সংখ্যা এতো কম হওয়াটা সংখ্যালঘু মুসলিম সমাজের এক করুন চিত্র তুলে ধরে। তাহলে কী অর্থনৈতিক কারনে ছেলেরা স্কুল ছুট হতে বাধ্য হচ্ছে? দারিদ্রের কারনে তাদেরকে শৈশবেই হাতুড়ি কাস্তে হাতে তুলে নিতে হচ্ছে। পিতা মাতার সহ যোগীতার জন্য তাদেরকে কাজের সন্ধানে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিতে হচ্ছে।এক দিকে তো আর্থিক কারণে তাদেরকে স্কুল ছাড়তে বাধ্য হতে হচ্ছে। অন্য দিকে চাকরী বাকরী না থাকায় এক সীমাহীন হতাশা গ্রাস করছে যুব সমাজের মনে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কন্যাশ্রী প্রকল্প,এবং সার্বিক সামাজিক চেতনা ছাত্রীদের অনেকটা স্কুল মুখী করেছে।সেই সাথে ছাত্রদের স্কুলের প্রতি বিরাগ যদি এভাবে বাড়তে থাকে তাহলে তা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।

পূর্বের তুলনায় অনেক স্বেচ্ছা সেবী সংস্থা এখন দুস্ত ছাত্র দের পড়াশোনায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।কিন্ত দরিদ্রতার কষাঘাত তাকে খুব বেশি কার্যকর হতে দিচ্ছেনা।মাদ্রাসা বোর্ডের এই রেজাল্ট সমাজের সামনে একরাশ প্রশ্ন তুলে দিল।

জামিরুল হাসান আরও বলেন,সমাজ বিজ্ঞানীদের বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে।এক্ষেত্রে শিক্ষার সংস্কার এবং বাস্তব কর্ম মুখী শিক্ষার বিস্তার একান্ত জরুরি।সামাজিক উন্নয়নের জন্য সমাজের সকল অংশকে সমান ভাবে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। নারী বা পুরুষ কোন একটি অংশ পিছিয়ে গেলে সমাজ পিছিয়ে যাবে।