কৌশিক সালুই, টিডিএন বাংলা, বীরভূম : কালীপুজোর এক দিন পরেই মা কালীর দুটি মন্দির থেকে সোনার গহনা চুরি। ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের সদাইপুর থানার চিনপাই গ্রামে।ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রানীগঞ্জ মোরগ্রাম ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ এলাকাবাসীদের। ভাঙচুর করা হয়েছে পুলিশের গাড়িও। মন্দিরের ট্রাস্টি বোর্ডের অভিযোগ পুলিশের গাফিলতির ফলেই এত বড় চুরির ঘটনা। যদিও পুলিশ গাফিলতির কথা অস্বীকার করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে চিনপাই গ্রামে বড় মা এবং ছোট মা নামে দুটি সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির আছে। সেই কালি মন্দির থেকে প্রায় ১০০ ভরি সোনার গহনা এবং প্রণামী বাক্স থেকে টাকা চুরি করে নিয়ে পালায় দুষ্কৃতীরা। এদিন ভোর বেলায় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে বড় মায়ের মন্দিরে গিয়ে  দেখেন দরজার তালা ভাঙ্গা। দরজা খুলে ভিতরে ঢুকতেই চক্ষু চড়কগাছ সকলের। মা কালীর বিগ্রহের সমস্ত সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর সমস্ত গহনা উধাও। নেই প্রণামী বাক্স।

আর কিছুটা দূরে ছোট মায়ের মন্দির এর গহনা ও কিছু নেই। ঘটনার খবর চাউর হতেই এলাকায় উত্তেজনা শুরু হয়। সকাল থেকেই জাতীয় সড়কে বসে অবরোধ শুরু করে এলাকাবাসী না। গ্রামের গৃহবধূরা ও রাস্তার উপর বসে পড়েছে। তাদের দাবি অবিলম্বে দুষ্কৃতীদের কে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং সমস্ত গহনা ফেরত চায়। কালী পূজা উপলক্ষে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চিনপাই গ্রামের ওই সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির এলাকায় বসে মেলা।প্রতিদিন রাত্রে থাকে সাংস্কৃতিক ও বিভিন্ন ধরনের বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান।

বুধবার রাতেও ছিল বাউল গানের আসর। প্রায় রাত্রি একটা পর্যন্ত চলছিল সেই গানের অনুষ্ঠান। গ্রামবাসীদের অভিযোগ সদাইপুর থানার ওসি অনুষ্ঠান শেষ করে দিতে চাপ দেয় মন্দির কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি তিনি মেলার দোকানদার দেরকেও দোকান বন্ধ করার নির্দেশ দেন। সেই সময় সামান্য বচসায় জড়িয়ে পরে পুলিশ এবং মন্দির কমিটির সদস্যরা। মন্দির পাহারার জন্য দুইজন সিভিক ভলেন্টিয়ার। যদিও তারা মন্দির থেকে কিছুটা দূরে ছিল বলে দাবি গ্রামবাসীদের।

ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা শুরু হয়। গ্রামের মহিলা পুরুষ সকলেই ঘটনার কিনারা করতে জাতীয় সড়কে বসে অবরোধ শুরু করেছে। কয়েক ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও অবরোধে এখনো চলছে। সিউড়ি থেকে বিশাল পুলিশবাহিনী গেলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। উত্তেজিত এলাকাবাসীরা  পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে সদাই পুর থানার ওসি  রউফ খান কে তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সিদ্ধেশ্বরী মা কালী মন্দির বোর্ডের সেবাইত দেববীদাস আচার্য বলেন, মা কালীর বিপুল পরিমাণ গণনা কালী পূজা উপলক্ষে করিয়ে সাজানো হয়। কালীপুজোর দিন থেকে ভাতৃদ্বিতীয়া দিন প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় পর্যন্ত সেই গহনা দিয়ে সাজানো থাকে মায়ের বিগ্রহ। গত রাতে গভীর রাত পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলছিল। সবাই পুর থানার ওসি এসে সেই অনুষ্ঠান দুটো বন্ধ করতে চাপ দেয় এবং মেলার স্টল গুলিকে বন্ধ করে দিতে বলে। এ নিয়ে আমাদের সঙ্গে সামান্য বচসা হলেও অনুষ্ঠান শেষ করে আমরা যে যার মত রাত্রে বাড়ি চলে যায়। রাত্রি দুটো থেকে ভোর  চারটের মধ্যে এই চুরির ঘটনা ঘটেছে। ভোর বেলাতে মন্দিরে প্রণাম করতে এসে গ্রামের লোকজন নজরে আসে দরজার তালা ভাঙ্গা। সমস্ত সোনার গহনাসহ প্রণামী বাক্স ও নেই। সদরপুর থানার ওসি কি কারণে আমাদেরকে অনুষ্ঠান শেষ করার জন্য এবং মেলার স্টলগুলো কে বন্ধ করার  জন্য চাপ দিচ্ছিল। আমাদের দাবি দ্রুত দুষ্কৃতীদেরকে গ্রেফতার করতে হবে এবং সমস্ত ঘটনা উদ্ধার করতে হবে।