নিজস্ব প্রতিনিধি, টিডিএন বাংলা, মুর্শিদাবাদ: মনের জোর আর প্রবল ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মানলো আর্থিক প্রতিবন্ধকতা। মুর্শিদাবাদ জেলার অন্তর্গত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী লালগোলা থানার পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের এক প্রত্যন্ত গ্রাম পুস্তুমপুরের সন্তান নাজমুস সাকিব। এবছর বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষাবিজ্ঞানে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়ে স্নাতকোত্তরে গোল্ড মেডেল অর্জন করেন, যা মুসলিম ছেলেমেয়েদের কাছে বিরল। এবছরেই ইউজিসি নেট ও ২০১৮ সালে সেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। বর্তমানে দক্ষিণ বিহার কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষাবিজ্ঞানে
পিএইচডি পাঠরত নাজমুস সাকিব।

পিতা আনুয়ারুল আবেদিন মাতা মাসুদা বেগমের তিন সন্তানের মধ্যে নাজমুস সাকিব প্রথম। নাজমুস ২০১০ সালে জয়েনপুর সেখালিপুর হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। ২০১২ সালে বাদুড়িয়া এল এম এস হাই স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। ২০১৫ ও ২০১৭ সালে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাবিজ্ঞানে প্রথম বিভাগে স্নাতক ও বিএড ডিগ্রী লাভ করেন।

এছাড়াও তিনি সংখ্যালঘু এবং সংখ্যাগুরু শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমতা অর্জনের ব্যবধান, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কর্মমুখী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা, সংখ্যালঘু ও অনগ্রসর শেণীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞান, ভাষা ও কর্মশিক্ষার সাফল্য অর্জনের মাধ্যম বিশ্লেষণাত্মক প্ৰবন্ধ রচনা করেন, যা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদপত্রে ছড়িয়ে পড়ে।

বাল্যকালে পড়াশুনার তেমন কোন আগ্রহ না থাকলেও মাধ্যমিকের পর রহমত ই আলম মিশনের শিক্ষকদের প্রবল আগ্রহ ও উদ্দীপনায় নাজমুস সাকিব এর জীবনের পট পরিবর্তন হয়। মা মাসুদা বেগম গৃহিনী, বাবা আনুয়ারুল আবেদিন চাষবাস করে বহুকষ্টে সংসার চালান।

নাজমুস সাকিব জানান, ছোটবেলায় পড়াশুনার মানে তেমন বুজতাম না, ছোট মামা রহমত ই আলম মিশনে আমাকে ভর্তি করেছিলেন। রহমত ই আলম মিশন আমাকে শিক্ষার মানে বোঝাতে সাহায্য করেছে। দক্ষিণ বিহার কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি একাই মুসলিম গবেষক। পিএইচডি তে মুসলিম শিক্ষা নিয়ে গবেষনার করার ইচ্ছে আছে। আমি আলীগড়ে থাকা কালীন সিনিয়র দাদা ডঃ রাহিদ রাজ্জাক, মইনুল ইসলাম এবং সাবির আহমেদ আমাকে সবসময় সাহায্য করে গেছেন। আমার দাদিমা আমাকে সবসময় পড়ার জন্য অনুপ্রানিত করেন।

পিতা আনুয়ারুল আবেদিন জানান, বহু কষ্ট করে ছেলেমেয়েদের পড়াশুনা করাচ্ছি। নাজমুস সাকিব ছোট থেকেই মেধাবী। তার সাফল্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি, সে যেন পিছিয়ে পড়া মুর্শিদাবাদবাসীর মান উজ্জ্বল করে। তার সাফল্য রাজমিস্ত্রীর জেলা, রাজমিস্ত্রী পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহ প্রদান করবে এবং সে নবাব হয়ে ফিরে আসবে এটা আমার বিশ্বাস।