নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা: পাপ মোচনের মাস রমজান। দেখতে দেখতে রোজা শেষে দিকে। শেষ দশদিন তাই অনেকেই ইতেকাফ করছেন। মুসলিম বিশ্ব লাইলাতুল কদরের খোঁজে রাত জাগছে। শুধু পুরুষ নয়, মহিলারাও আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করে গোনাহ মাফের জন্য দোয়া করছেন।
এ বছর একুশ ও তেইশ,পঁচিশ ও সাতাশে রাত্রি শেষ হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, সারা ভারতের মতো বাংলা জুড়ে লক্ষ নারী রাত জাগছেন মহান আল্লাহর কাছে গোনাহ মাফের জন্য। তবে সাতাশে রাতে বেশি ভিড় দেখা গেছে।

কদরের ফজিলত বোঝানোর জন্য মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ‘কদর’ নামে আলাদা একটি সূরা অবতীর্ণ করেন। কেবল কোরআন নয় বরং হাদিসেও কদরের ফজিলত রয়েছে বলে প্রমাণ রয়েছে। আর সেই গৌরবময় রাতের খোঁজে রমজানের শেষ দিনগুলোর বিজোড় রাতে অর্থাৎ একুশ, তেইশ, পঁচিশ, সাতাশ ও ঊনত্রিশ রমজানের রাত জাগেন মুসলিম মহিলারা। নদিয়া, মুর্শিদাবাদ,হাওড়া, দুই চব্বিশ পরগনা সহ বিভিন্ন জেলার মহিলারা রাত জাগেন।

কলকাতার বিভিন্ন মোহল্লাতেও রাত জগতে দেখা গেছে। কলকাতার রাজারহাট এয়ারপোর্ট গোলপালপুরে মহিলারা দল বেঁধে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহিলা বলেন,’আমরা প্রতিবার রমজানের শেষ দশদিনের বিজোড় রাতে জাগি। আসলে লাইলাতুল কদরের ফজিলত অপরিসীম। তাই সারা রাত জাগরণ করে সঠিকভাবে ইবাদত-বন্দেগীতে মনোনিবেশ করা কর্তব্য। বেশি বেশি নফল নামাজ, তাহাজ্জুদ, সালাতুস তাসবিহ, উমরী কাজা নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দান-সাদকা, জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল, তাওবা-ইসতেগফার, দুয়া-দুরূদসহ ইত্যাদি নফল আমলের প্রতি এই সময় গুরুত্ব দেয় মুসলিমরা।’
রাত জাগতে গিয়ে যাতে ঘুম না আসে তার জন্য বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য হয়। মায়েদের সাথে শিশুরাও অংশগ্রহণ করে।

মুর্শিদাবাদের নাজেরা বিবি, হাবিবা খাতুন,নাইমা বিবি, তানজিলা বিবি সহ হাজার হাজার মহিলা রাত জেগে আল্লাহর ইবাদত করেছেন। কেউ মসজিদে, কেউ নিজের বাড়িতে আবার অনেকেই দলবদ্ধ ভাবে কোনও বাড়ির উঠানে বা ছাদে কুরআন পড়ছেন, তসবিহ পড়ছেন।

তবে সব জায়গায় মসজিদে রাত জাগার ব্যবস্থা নেই। মুসলিম পার্সোনাল’ল বোর্ডের সদস্য কলকাতার উজমা আলম টিডিএন বাংলাকে বলেন,’আমরা সব নিজ নিজ বাড়িতে জাগি। তবে কলকাতার দু’একটা জায়গায় মসজিদে লাইলাতুল কদরের খোঁজে ইবাদত করেন মেয়েরা।’

তিনি আরও বলেন,’এই দিনটির জন্য আমরা অপেক্ষা করি। জান্নাত পেয়ে গেলে আর কী দরকার। লাইলাতুল কদর হলো হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। উক্ত রজনীতে ফেরেশতাগণ ও জিবরাঈল (আ.) তাদের প্রতিপালকের নির্দেশে প্রত্যেক বিষয় নিয়ে অবতীর্ণ হন এটা শান্তিময় রজনী যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। আমরা অনেকেই ইতেকাফ করতে পারিনা,কিন্তু লাইলাতুল কদর খুঁজি।’

নদিয়ার করিমপুরের পন্ডিতপুর মসজিদেও রাত জাগেন মুসলিম মহিলারা। আবার দেবগ্রাম সহ বিভিন্ন জায়গায়,মসজিদে নামাজ সহ ইবাদত করেন। তবে রমজানের রোজা রাখতে রাখতে অনেকের এই মাসের প্রতি আলাদা দরদ তৈরি হয়েছে। এক মহিলা বলছিলেন,’সত্যি বলতে কী, প্রতিদিন ইফতার, সেহরি,কুরআন পাঠ করে অভ্যাস হয়ে গেছে। এত সুন্দর পবিত্র মাস সবার ভাগ্যে জোটেনা। আল্লাহ আমাদের দিয়েছেন।’