টিডিএন বাংলা ডেস্ক : উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা তৃণমূল সরকার সংখ্যালঘুদের জন্য কাজ তো করেননি বরং সংখ্যালঘুদের জন্য সংবিধান যে অধিকার দিয়েছে তাও বাস্তবায়ন করেননি! বৃহস্পতিবার কলকাতার মৌলালী যুব কেন্দ্রে সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের ১৬ তম প্রতিষ্ঠা দিবসে এই ভাবেই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন দলটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান। তাঁর মতে, এই সরকার মুসলিম দরদী বলে পরিচয় দেয়। আদতে বাম কংগ্রেসের মতো এই সরকার মুসলিমদের জন্য কিছু করেনি। প্রচার হয়েছে বেশি, অথচ কাজ হয়নি।
সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন সাংসদ সিপিআইএম নেতা মহঃ সেলিম, কংগ্রেস নেতা কামরু চৌধুরী, সিপিআই নেতা স্বপন ব্যানার্জি, জমিয়তে আহলে হাদিসের রাজ্য সভাপতি ডাঃ আলমগীর সরদার, চেতনা লহর পত্রিকার সম্পাদক অনন্ত আচার্য প্রমুখ।

এদিন মহঃ কামরুজ্জামান ওবিসি-এ ক্যাটাগরিতে সংখ্যালঘুদের জন্য ১০ শতাংশ সংরক্ষণ থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ করেন। বিজেপি সহ বিভিন্ন দল সংখ্যালঘু তোষণের যে গল্প ফেঁদেছে সেই তত্ত্ব উড়িয়ে কামরুজ্জামান জানান, তৃণমূল সরকার বিজেপিকে পাল্লা দিতে গিয়ে সংখ্যালঘুদের চাইতে সংখ্যাগুরুদের বেশি তোষন করছেন। তিনি সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের জন্মলগ্ন থেকে তার কার্যবিবরণী তুলে ধরে বলেন, ২০০৪ সাল থেকে সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন নিরন্তন ভাবে এ রাজ্যের মুসলিম সমাজের শিক্ষা ও আর্থ সামাজিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। ২০১০ সালে বামফ্রন্ট সরকার মুসলমানদের অতি অনগ্রসর হিসেবে ঘোষণা ও ওবিসি-এ গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করে ১০ শতাংশ সংরক্ষণ আদায় করার জন্য যুব ফেডারেশন এর বলিষ্ঠ আন্দোলনের কথাও তুলে ধরেন তিনি। কামরুজ্জামান বলেন,  চাকুরিতে সংরক্ষণ ও উচ্চ শিক্ষায় ওবিসিদের সংরক্ষণ এর দাবি নিয়ে রাজ্যের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে আমরা ঘুরেছি। আমাদের প্রচেষ্টায়   রাজ্যের ৩৪ টি মুসলিম জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র  জাতীয় স্তরে ওবিসি তালিকাভুক্ত করে। পাশাপাশি রাজ্যের মুসলিম সমাজের মানুষের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় আন্দোলন করেছে ফেডারেশন।
মুহাম্মদ সেলিম বক্তব্য রাখতে গিয়ে আরএসএসের সাথে তৃণমূলের সম্পর্ক তুলে ধরেন।