রোকাইয়া খাতুন, টিডিএন বাংলা, কলকাতা: কোন নির্দিষ্ট দলকে নয়, শক্তিশালী গণতন্ত্রের লক্ষ্যে ধর্ম নিরপেক্ষ প্রার্থীকেই ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল জামাআতে-ইসলামি-হিন্দ। আসন্ন লোকসভা ভোটকে কেন্দ্র করে শুক্রবার কলকাতার প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায় ধর্মীয় সংগঠনটি।

সম্মেলনে সংগঠনের কর্মী, সাধারণ জনগণ ও ভোট প্রার্থীদের জন্য ইস্তেহার প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত ইস্তাহারে বলা হয়েছে, এবারের লোকসভা নির্বাচনে জামাআত থেকে কোন নির্দিষ্ট দলকে ভোট দেওয়া হবে না। তৃণমূল-সিপিএম-কংগ্রেস নির্দিষ্ট করে কেউই ভোট পাবেন না। যে প্রার্থী ধর্ম নিরপেক্ষ, অসাম্প্রদায়িক, সৎ, নির্ভীক, জনদরদী, সমব্যথী, সংবিধান রক্ষা কারী, শিক্ষিত, বিবেকবান তাঁকেই ভোট দেওয়া হবে। যদি কোন জেলার প্রার্থীদের মধ্যে কম-বেশি সবাই সাম্প্রদায়িক হয় তবে অপেক্ষাকৃত কম সাম্প্রদায়িক প্রার্থীকেই ভোট দেওয়া হবে বলে ওই ইস্তেহারে জানানো হয়েছে। তবে কোন জেলা থেকে নির্দিষ্ট করে কোন প্রার্থীকে ভোট দেওয়া হবে, সংগঠনের তরফ থেকে তা এখনও জানানো হয়নি। কিন্তু খুব শীঘ্রই তা প্রকাশিত হবে বলে জানা গেছে।

সংগঠনের তরফ থেকে সব প্রার্থীদের কাছ থেকে আশা করা হয়েছে, প্রার্থীরা যেন মানুষের কল্যানে এগিয়ে আসেন। সমাজের দরিদ্র, বঞ্চিত নারী শিশুর পাশে দাঁড়ান। সেইসঙ্গে সংখ্যালঘু মুসলিমদের উপর যেন অবিচার করা না হয়। দলটি মনে করে, সম্প্রতি মুসলিমদের ধর্মীয় ও ব্যাক্তিগত আইনের উপর হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে এবং দিন দিন তার মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। সরকারের উচিত এবিষয়ে দৃষ্টি দেওয়া এবং বিবিধ সাংস্কৃতিকে ঠিকিয়ে রাখা, যা ভারতের ঐতিহ্যও বটে।

নির্বাচনী ইস্তেহারে বলা হয়েছে, মানুষের নিত্য চাহিদা সমূহের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। সমস্ত মানুষের জন্য স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতি করা প্রয়োজন। বিশেষ করে সমাজের সংখ্যালঘু দলিত, মুসলিম, এসসি, এসটি দের ক্ষেত্রে। এমনকি তাদের সংরক্ষণের বিষয়টি নিয়েও ভাবা দরকার। সাচার কমিটির প্রকাশিত রিপোর্টকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত। সেইসঙ্গে ইস্তাহারে আরও বলা হয়, অর্থনীতি প্রত্যেক দেশের উন্নয়নের হাতিয়ার। সেই অর্থনীতি ব্যবস্থাকে মজবুত করতে হবে এবং দেশে সুদ মুক্ত ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

সেইসঙ্গে সংগঠনের তরফ থেকে জানানো হয়, তারা নিজেরা কোন প্রার্থী দেবেন না, কিন্তু বিভিন্ন দল থেকে দাঁড়ানো প্রার্থীদের কাছে তারা আশা করেন প্রার্থীরা মানবিকতার প্রসার ঘটাবেন এবং মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসবেন।

সংগঠনের তরফে এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াত-ইসলামি-হিন্দের রাজ্য সভাপতি মুহাম্মদ নুরুদ্দিন, রাজ্য সম্পাদক মুহাম্মদ আব্দুর রফিক, রাজ্য মিডিয়া ইনচার্জ সম্পাদক ডা: মসিউর রহমান, আব্দুল আজিজ প্রমুখ।