টিডিএন বাংলা ডেস্ক: ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন বিশিষ্ঠ ব‍্যক্তিগন বিজেপিকে ভোট না দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু এবার বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলকেও ভোট না দেওয়ার মতামত জানিয়েছেন বাংলার ৯০ জন বুদ্ধিজীবী। ভোটের প্রচার এবছর আর প্রার্থীদের শুধু সীমাবদ্ধ নেই। আসরে নেমে পড়েছেন শিল্পীরাও। দেশজুড়ে চলছে বিজেপির পক্ষে আর বিপক্ষের দড়ি টানাটানি খেলা। একদিন দক্ষিণ ভারতের পরিচালক ও বলিউডের শিল্পীদের মধ্যে এই টাগ অফ ওয়ার আটকে ছিল। এখন সেই হাওয়া এসে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গেও। এরাজ্যের বুদ্ধিজীবীরাও এবার সেই দলে নাম লেখালেন। অবশ্য বঙ্গের বাতাস বিজেপির পরিপন্থী। বাংলার প্রায় ৯০ জন বুদ্ধিজীবী সম্প্রতি একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছেন।

সেখানে তাঁরা আবেদন জানিয়েছেন, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার স্বার্থে এবার বিজেপির বিরুদ্ধে যেন জনগণ তাদের মূল্যবান ভোট দেয়। তাঁরা আরও জানিয়েছেন, দেশজুড়ে যে অসহিষ্ণুতা, ধর্মান্ধতা ও ঘৃণা চলছে তার জন্য দায়ী বিজেপি। এমনকী পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধেও সরব হয়েছেন তাঁরা। এরাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সাম্প্রয়াদিয়কতার দ্রুত বিস্তার, পঞ্চায়েত নির্বাচনে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারে বাধাদান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে পেশিশক্তির সাহায্যে দমন করছে সরকার। তাই এই সরকারকেও আসন্ন নির্বাচনে ছুঁড়ে ফেলে দিক জনগণ। ইতিমধ্যেই নাসিরউদ্দিন শাহ, গিরিশ কারনাড, অমল পালেকরের মতো ব্যক্তিত্ব বিজেপির বিরুদ্ধে রব তুলেছেন। সেই সুরেই সুর মেলাচ্ছেন তাঁরা।

বিবৃতিটি যাঁরা প্রকাশ করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, তরুণ মজুমদার, সব্যসাচী চক্রবর্তী, স্বপ্নময় চক্রবর্তী, পবিত্র সরকার, উর্মিমালা বসু, কৌশিক সেন, অনীক দত্ত, রজতাভ দত্ত, দেবজ্যোতি মিশ্র, শ্রীলেখা মিত্র, মন্দাক্রান্তা সেন প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গতমাসে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে ভোট না দেওয়ার আবেদন জানান ১০০-রও বেশি চিত্রপরিচালক । তাঁদের স্লোগান ছিল- ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ (Save the democracy)। জনগণের কাছে তাঁদের আবেদন ছিল, এবারের নির্বাচনে তারা যেন এমন একটি সরকার নির্বাচন করে, যারা দেশের সংবিধানকে শ্রদ্ধা করবে। সমস্ত রকম সেন্সরশিপ থেকে যেন অব্যাহতি পাওয়া যায় আর বাক স্বাধীনতা যাতে লঙ্ঘন না হয়। দেশের সাংস্কৃতিক ও ভৌগলিক অখণ্ডতা বজায় রাখতে এই নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। তার কিছুদিন পর ৬০০ জন শিল্পীও এই একথা কথা বলেন। এই ৬০০ জন শিল্পীর মধ্যে রয়েছেন নাসিরউদ্দিন শাহ, রত্না পাঠক, অমল পালেকর, অনুরাগ কাশ্যপ, কঙ্কনা সেনশর্মা, লিলেট দুবে ও মানব কউলের মতো ব্যক্তিত্ব। বিবৃতিতে শিল্পীরা বলেন, ভালবাসা, সহানুভতি, সাম্যতা ও সামাজিক বিচারবোধকে গুরুত্ব দিয়ে ভোট দেওয়া উচিত। বিজেপি হিন্দুত্বে কোনও লাগাম রাখেনি। রাজনীতিতে সুবিধা পাওয়ার জন্যই এই কৌশল ব্যবহার করেছে গেরুয়া শিবির। এমনকী হিংসা ও ঘৃণা ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা।