নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা: দেশকে দাসে পরিণত করতেই এনআরসি করতে চাইছে বিজেপি সরকার! এমনই অভিযোগ তুলে পথে নামছে ভারতীয় আদিবাসী একতা মঞ্চ। ওই সংগঠনের নেতা লক্ষ্মীকান্ত হাঁসদা, ছোট্টু মল ও সিমল সোরেন জানান, আজ আমাদের স্বাধীন ভারতবাসীর নাগরিকত্ব সন্দেহ ও হুমকির মুখে দাঁড়িয়েছে। মানবতা বিরোধী বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশিধনী আইন দিয়ে সমাজের ঐক্য নষ্ট করে বিভেদ প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র চলছে। এই আইনের মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ধ্বংস করে আদিবাসী মুলনিবাসী এসটি,এসসি, ওবিসি মানুষদের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। এনআরসি-র মাধ্যমে ভিটেমাটি কেড়ে দাসে পরিণত করতে চাইছে। আর এনপিআর কে এনআরসি র প্রথম ধাপ হিসাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।”
ভারতীয় আদিবাসী একতা মঞ্চের নেতারা বলছেন, ইতিপূর্বে এসসি, এসটিদের রেখে রক্ষাকবচের ন্যায় বর্ণ বৈষম্য বিরোধী যে আইন ছিল তা লঘু করার চেষ্টা হয়েছে। আদিবাসীদের বন অধিকার আইন ২০০৬ কেড়ে নিয়ে বনাঞ্চল থেকে আদিবাসীদের উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র চলছে। আগামীতে এসসি,এসটি, ওবিসি দের সংরক্ষণ তুলে দেবে। আসলে যারা সংবিধানের বিরোধী, আম্বেদকর বিরোধী, আদিবাসী-দলিত-সংখ্যালঘু পিছিয়ে পড়া মানুষের অধিকারের বিরোধী, সেই বর্ণ বাদীরাই আজ ক্ষমতায়। তারা উচ্চবর্ণের কিছু সংখ্যক মানুষ ভারতের সব কিছুর ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছে। অন্য দিকে সাধারণ দেশবাসী কৃষক খেটে খাওয়া মানুষের জীবন আজ বিপন্ন। কালের চক্র যেন ইতিহাসের সেই বৈদিক যুগে ফিরে আসছে। এই সব কালাকানুন যেন তারই নমুনা। তাই সমস্ত কুচক্রান্ত ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সংবিধান বাঁচাতে, পরিবার-পরিজন বাঁচাতে, জাতিকে বাঁচাতে সর্বোপরি দেশ ও দেশবাসীকে বাঁচাতে পথে নামতে হবে।
জানা গেছে, সিএএ,এনপিআর ও এনআরসির বিরুদ্ধে মিছিল, সভা সহ একাধিক কর্মসূচি নিচ্ছে আদিবাসী সমাজ।