অমিতাভ বিশ্বাস, করিমপুর : সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির গড়ল করিমপুর। দিনমজুর দুই হিন্দু ভাইয়ের দেওয়া জমির ওপর দিয়ে তৈরি হল মুসলমান সম্প্রদায়ের ইদগাহে যাওয়ার রাস্তা। নদীয়ার নাজিরপুরের দুই ভাই জয়দেব পাল ও বিশ্বজিৎ পালকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ।
থানারপাড়া থানার টোপলা গ্রামে মুসলমানদের নামাজ পড়ার জন্য একটি ইদগাহ আছে।

 

 

যেখানে ইদের সময় আশপাশের গ্রামের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ নামাজ পড়তে যান। এই ইদগাহে খুব সহজে পৌঁছে যান নাজিরপুর ও টোপলা গ্রামের মানুষজন। কিন্তু প্রতাপনগরের মানুষকে নামাজ পড়তে যেতে হত প্রায় পাঁচ কিমি ঘুরে। প্রতাপনগরের মানুষজন বেশ কিছু দিন ধরেই ইদগাহ যাওয়ার রাস্তা তৈরি করার জন্য এলাকার মানুষজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন।

 

 

যে রাস্তা তৈরি হলে পাঁচ কিমি দূরত্ব কমে হবে মাত্র পাঁচশো মিটার। রাস্তা করতে যা জমি দরকার তাতে দেখা যায় জমির মালিক ১৪ জন। তাঁদের প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা দিতে হবে। তার মধ্যে ১২জন মুসলিম সম্প্রদায়ের আর বাকি দু’‌জন হিন্দু। রাস্তা করার জন্য ওই দুই হিন্দু ভাইকে জমির কিছু অংশ ইদগাহে যাওয়ার জন্য রাস্তা করতে বিক্রি করার জন্য বলেন। এই প্রস্তাব শুনে দিনমজুর দুই ভাই খুশি মনে জানান, ইদগাহে যাওয়ার জন্য টাকার বিনিময়ে রাস্তার জমি বিক্রি করব না। যেটুকু জমি লাগবে, আমরা সেই জমি বিনামূল্যে দেব। টালির চাল দেওয়া পাটকাটির বেড়ার ঘরে থাকা দিনমজুর ওই দুই ভাইয়ের কথা শুনে অবাক হন ইদগাহ কমিটির মানুষজন। শেষমেশ দুই ভাইয়ের দানে শনিবার ইদের আগেই রাস্তার কাজ শেষ হয়। যে কারণে ইদের দিনে প্রতাপনগর গ্রামের মানুষ খুব সহজেই এই ইদগাহে পৌঁছে নামাজ পড়েন। প্রায় লক্ষাধিক টাকা মূল্যের জমি ইদগাহের রাস্তার জন্য ছেড়ে দিয়ে ওই দুই পরিবার এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বলে মনে করেন এলাকার বাসিন্দারা।

 


এলাকার বাসিন্দা ও ইদগাহ কমিটির সদস্য রফিক ম্যালিতা জানান, ওই রাস্তা প্রতাপনগরের মানুষের জন্য খুব দরকার ছিল। সেই রাস্তা দু’‌জন দিন–আনা–দিন–খাওয়া হিন্দু ইদগাহে যাওয়ার রাস্তা তৈরির জন্য জমি দান করলেন, তা এক অনন্য নজির। তাঁদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। দুই দিনমজুরের দান মানুষ অনেক দিন মনে রাখবেন। জমিদাতা বিশ্বজিৎ পাল ও জয়দেব পাল বলেন, ‘‌আমাদের অভাবের সংসার। তবু সামান্য জমি ইদগাহকে দিতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে হচ্ছে। ওইখানে যদি আমাদের কোনও মন্দির থাকত, তা হলেও তো রাস্তা তৈরির জন্য জমি দিতে হত। আমাদের মা–বাবা ছোট থেকে শিখিয়েছেন, সব ধর্মের মূল কথা এক। কোনও ধর্ম খারাপ নয়। আমাদের কাছে ইদগাহ কমিটি যখন জমির কথা বলল তখন বাবা–মায়ের কথা মনে পড়ায় সানন্দে জমি দিতে রাজি হয়ে গেলাম।’‌

ছবি : রমণী বিশ্বাস

(সূত্রঃ আজকাল)