নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা : শহর এখন সল্টলেকমুখী। সময়টা ইন্টারনেটের। অনেকেই অনলাইনে বই পড়তে অভ্যস্ত। কিন্তু নতুন বইয়ের গন্ধ এখনো বইপ্রেমীদের বুঁদ করে। সেই টানেই বই-সইকে কাছে পেতে শহরবাসীর গন্তব্য বইমেলার মাঠ। আজ দ্বিতীয় দিন। বৃহস্পতিবার ৪৩ তম কলকাতা বইমেলার উদ্বোধন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সবে তো মেলা শুরু। এর মধ্যে বইপ্রেমীদের উৎসাহের কমতি নেই। এখনও অনেক স্টলে ফিনিশিং টাচ চলছে।
গত বছরের মতো এবারও সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে হচ্ছে বইমেলা। নিরাপত্তায় কোনো ফাঁক নেই। আয়োজনের কমতি নেই। অসংখ্য পুলিশ কর্মী, সাদা পোশাকের অফিসার, সিসিটিভির তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রয়েছে। বইমেলায় ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে বিধাননগর কমিশনারেট। বসানো হয়েছে ২টি ওয়াচ টাওয়ার, হাজির অ্যান্টি মলেসটেশন স্কোয়াড ও অ্যান্টি ক্রাইম স্কোয়াড। বইমেলায় আগুন লাগলে তা যাতে দ্রুত আয়ত্তে আনা যায়, তার জন্য সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে যাবতীয় ব্যবস্থা রেখছে দমকল। সতর্ক দমকলকর্মীরাও।
সারাটা বছর প্রকাশকরা মুখিয়ে থাকেন এই সময়টার জন্য। বই পাগলদের জন্য এত বড় পার্বণে মাততে পারে বাঙালিই। দেশি বিদেশি প্রকাশনা সংস্থা হাজির। বড় প্রকাশনাগুলির পাশাপাশি রয়েছে লিটল ম্যাগের স্টল। মেলার মাঠে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে ছোট প্রকাশনী সংস্থাগুলিও। কত কবি, সাহিত্যিক আবির্ভাবের অপেক্ষায় বইমেলার জন্য দিন গুণতে থাকেন। এই ৪৩ তম বইমেলার মাঠেই আত্মপ্রকাশ করবে কত নতুন কবি, লেখক।

কলকাতা বইমেলা বিশ্বের বৃহত্তম অবাণিজ্যিক বইমেলা। আয়তনে বিশ্বের যেকোনো বড় বইমেলার সঙ্গে তুলনীয় হলে, এই কলকাতা বইমেলার কিছু বৈশিষ্ট্যগত তফাৎ আছে। ফ্রাঙ্কফুর্ট বা লন্ডন –বইমেলার থেকে আলাদা কলকাতা বইমেলা। বিক্রি তো একটা প্রধান উদ্দেশ্য বটেই, কিন্তু প্রকাশক ও পুস্তক বিক্রেতাদের নতুন বা পুরানো বই প্রচারের আদর্শ ঠিকানা এই বইমেলা। এখানে লেখক-পাঠক সমন্বয়ও ঘটে। তাঁদের আলাপচারিতা এক অন্য় আবহ তৈরি করে। সবমিলিয়ে বইকে ঘিরে এমন পার্বণ বিরল। এই কারণেই বোধহয় কলকাতার সাধের বইমেলাকে `বাঙালির চতুর্দশ পার্বণ’ বলা হয়। অনেক সময় নতুন বইয়ের গন্ধ ছাপিয়ে প্রবল হয়ে ওঠে ফুড স্টল থেকে আসা খাবারের সুবাস। ভোজন রসিকদের জন্য থাক না খাদ্য মেলা, বইমেলা শুধু-ই কি বইপ্রেমীদের ঠিকানা হতে পারে না? ফুড পার্কের দৌরাত্ম্য অনেক সময়ই বইপ্রেমীর বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।