টিডিএন বাংলা ডেস্ক : এ যেন দুঃস্বপ্নের ঘোর! এখনো ভাবতে পারছেন না কী করে এমনটা হল! কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসছে তাঁর। সরস্বতী পুজোর উদ্বোধন সেরে আর বাড়ি ফেরা হয়নি বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাসের। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে তাঁকে গুলি করেছে আততায়ীরা। সেই সঙ্গে ধুলায় মিলিয়ে গেছে তাঁর স্ত্রীর সব স্বপ্ন। জীবন আজ রূপালি বিশ্বাসের কাছে অর্থহীন।

শোকে কাতর রূপালি বিশ্বাস জানালেন, তিনি এই নারকীয় অপরাধের শাস্তি চান। স্বামীর খুনের ঘটনায় বিজেপির দিকেই আঙুল তুলছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি এই কাজ করে থাকতে পারে। একটি ছেলে আগে তৃণমূল করত, এখন বিজেপিতে গিয়েছে। আমি শাস্তি চাই।

বিয়ে হয়েছে মাত্র ২ বছর ৩ মাস। ২০১৬ সালে বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাসের সঙ্গে বিয়ে হয় রূপালির। মা, স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে তাঁদের ছিমছাম সংসার। শনিবার রাত থেকে স্বামীর খুনের খবর পেয়ে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন তিনি। শোকে বিহ্বল রূপালি জানান, বিয়ের পর দীর্ঘদিন এমএলএ হস্টেলে ছিলেন সত্যজিৎ বিশ্বাস। তিনিও মাঝে মধ্যে স্বামীর কাছে যেতেন। এমএলএ হস্টেলে সবার জন্য রান্না করতেন বিধায়ক। সবার খুব প্রিয় ও কাছের মানুষ ছিলেন এই নেতা।

কালই বাপের বাড়ি থেকে ফেরেন রূপালি। সত্যজিৎ বিশ্বাসই তাঁকে বাপের বাড়ি থেকে নিয়ে আসেন। বাড়ি ফিরে নতুন পাঞ্জাবী পরে ছেলেকে নিয়ে পুজোর উদ্বোধনে যান। বলে গিয়েছিলেন ফুচকা নিয়ে ফিরবেন। সেটাই তাঁদের শেষ কথা। আর ঘরে এল না মানুষটা!

সন্ধে নামে। অন্ধকার নামে জীবনে। ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে যেতে থাকে। মনের মধ্যে কেন যেন একটা আতঙ্ক কাজ করছিল রূপালির মনে। সন্ধে ৮ টা নাগাদ স্বামী ফিরছেন না দেখে, তিনি একবার তাঁর ফোনে ফোন করেন। ফোন বেজে যায়। আতঙ্ক আরও ঘনীভূত হতে থাকে। অস্থির হয়ে ড্রাইভারকে ফোন করেন। তিনি জানান, বক্তৃতা দিচ্ছেন বিধায়ক। তারপরেই তাঁরা বাড়ি ফিরবেন।

এরপরে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগে ঘটে গেল সেই বিভৎস ঘটনা। মুহূর্তে আততায়ীর গুলি বদলে দিল সব হিসেব।

এলাকায় সবার প্রিয় এই মানুষটির কোনো শত্রু ছিল বলে জানতেন না রূপালি। তবে কে তাঁর প্রাণ নিল! কেনই বা নিল! অনেক প্রশ্নের উত্তর আজ আর মিলছে না।

খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে অভিজিৎ পুণ্ডারি নামে এক পড়শি যুবকের কথা তিনি শুনতে পাচ্ছেন। রূপালি বিশ্বাস জানালেন, ৪-৫ জন ছেলে জটলা করছিল। তাদের মধ্যে একজন গুলি করে।

তদন্ত হবে। গ্রেফতারের সংখ্যাও হয়ত বাড়বে। আইন আইনের পথে চলবে। দোষীরা শাস্তি পাবে কিনা সেই তর্কে না গিয়েও বলা যায়, বিশ্বাস পরিবারে যে ক্ষতি হল, তা কি কোনো মূল্যে পূরণ সম্ভব?

আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু…..

তবু এ কেমন মৃত্যু? উত্তর নেই স্বামীহারা, পিতৃহারা পরিবারের কাছে।