নিজস্ব প্রতিনিধি, টিডিএন বাংলা, বীরভূম:
রাষ্ট্রপতি তথা বিশ্বভারতীর পরিদর্শক শান্তি নিকেতনের মাটিতে পা রাখার সাথে সাথেই বিশ্বভারতীর এক বামপন্থী ছাত্র সংগঠন তাঁকে খোলা চিঠি লিখলেন। তাঁদের দাবি, বিশ্ব ভারতীর মুক্ত শিক্ষাঙ্গনে বন্দুক ধারী সিআইএসএফ নিযুক্তি বন্ধ হোক।

এব্যাপারে ডিএসও ছাত্র সংগঠনের জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য সুদাম সুহা বলেন, আমরা রাষ্ট্রপতি তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিদর্শক এবং ডিরেক্টর তথা রাজ্যপালের কাছে খোলা চিঠিতে জানাব , রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মুক্ত শিক্ষাঙ্গনে বন্দুক ধারী সি আই এস এফ মোতায়েনের আগে ছাত্র ছাত্রীদের কাছে কোন মতামত নেওয়া হয় নি। তাছাড়া এই নিযুক্তি রবীন্দ্র আদর্শ বিরোধী। ছাত্র ছাত্রী স্বার্থ বিরোধী। ভবিষ্যতে ছাত্র ছাত্রী স্বার্থ সম্পর্কিত যে কোন আন্দোলনকে বন্দুক দিয়ে দমিয়ে দেওয়া হবে। বন্দুক আর বেয়নেট যেখানে শেষ কথা বলবে, সেখানে সুষ্ঠ আলোচনার জায়গা থাকে না।

উল্লেখ্য, সমাবর্তনের আগে বিশ্ব বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এই সি আই এস এফ মোতায়েনের বিরুদ্ধে পোষ্টার পড়ে। বিশ্ব বিদ্যালয়ের কর্মী সভা এর বিরোধিতা করে সি আই এস এফের নিযুক্তির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন করে। সংগঠনের সভাপতি গগন সরকার বলেন, যেখানে কর্মী দের বকেয়া মেটাতে পারছে না, বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে সি আই এস এফ মোতায়েনের জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা মাসে ব্যয় করে বিশ্ব বিদ্যালয়ের কি লাভ? একইভাবে পড়ুয়াদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছে, যেখানে স্কালারদের বকেয়া দিতে পারছে না, সেখানে এই বাহুল্য কোথা থেকে আসে।

এই উত্তপ্ত আঁচ উপলব্ধি করেই ছাত্র ছাত্রীদের কার্ড ইস্যু করলেও, সমাবর্তনে প্রতিটি বিভাগে মাত্র চার জন পড়ুয়ারা মঞ্চে উঠতে পারবেন ছাতিমপাতা নিতে। একমাত্র যাদের ফল ভালো, তাদের হাতে উপাচার্য সপ্তপর্ণী তুলে দেবেন বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিশ্ব ভারতী কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের কাছে সি আই এস এফ নিযুক্তি নিয়ে দাবি করার পিছনে যুক্তি দেখিয়ে বলে, বেসরকারি নিরাপত্তা রক্ষী কথা মত কাজ করে না। আর তার ফলে চুরি যাচ্ছে মূল্যবান চন্দন গাছ। আর তার পর, মন্ত্রক থেকে মঞ্জুরি মিলেছে বলে সূত্রের খবর। উল্লেখ্য, বেনারস হিন্দু বিশ্ব বিদ্যালয় ও একসময় সি আই এস এফের দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু, সেখানে কোন মোতায়েন করা হয় নি।

এদিকে সি আই এস এফ মোতায়েনের সবুজ সংকেত প্রাপ্তির খবর চাউর হতেই সমালোচনায় মুখর হন পড়ুয়া থেকে আশ্রমিকরা। এর আগেও, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যালয়কে দেওয়াল দিয়ে ঘেরার সময় প্রাক্তন উপাচার্য সুশান্ত দত্ত গুপ্তের আমলে ঘোর সমালোচনা হয়। বলা হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মুক্ত অঙ্গনকে দেওয়াল দিয়ে অবরুদ্ধ করা হচ্ছে। জেল খানা বানানো হচ্ছে। এবার কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী নিযুক্তিতে সেই জেল খানা বানানোর প্রচেষ্টা বলে অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন মহলে। এই তপ্ত পরিবেশের গুমোটে পালন হতে চলেছে ৫০ তম সমাবর্তন অনুষ্ঠান। এদিকে সোমবার যাতে রাষ্ট্রপতির সামনে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে ব্যাপারে সচেষ্ট।