টিডিএন বাংলা: প্রচারে যখন নামছেন সকাল বেলায় তখন কী খাওয়া দাওয়া করে যাচ্ছেন? আর সারাদিন কীভাবে প্রচারটা করছেন এই রৌদ্রে?

আবু তাহের খান: সকালে এক গ্লাস ছাতু খেয়েই আমাদের কাজ শুরু হয়ে যায়। সকালবেলা এক গ্লাস ছাতু খেয়েছি। কাজ শুরু হচ্ছে। সকাল বেলার প্রচার এখনো সেভাবে শুরু করতে পারিনি। মানুষতো বিভিন্ন জায়গা থেকে আসে,তাদের এলাকার সমস্যা, তাদের সাথে কথাবার্তা বলেই সময় অতিবাহিত হচ্ছে।

আপনার শখ কী? মানে রাজনীতির বাইরে কি করতে ভালোবাসেন

আমার পেশা,নেশা সবকিছুই রাজনীতি। এটা ছাড়া কোনো বিকল্প কিছু চিন্তাভাবনা করতে পারিনা।জীবনে কোনো পান,বিড়ি টেস্টও করিনি।খেলাধুলা,পড়া কোনো কিছুতেই আমার শখ নেই রাজনীতি ছাড়া।

কোন কোন ইস্যুতে এবার প্রচারে নামছেন?

এবারের প্রচারের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই। একদিকে উন্নয়ন আর একদিকে সাম্প্রদায়িকতা। কারণ গোটা ভারতবর্ষে সাম্প্রদায়িকতা যেভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে,যেভাবে বিভাজনের চেষ্টা চলছে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন আমাদের নেত্রী মমতা ব্যানার্জী। তার ভাবনা ভারতবর্ষের বিজেপি বিরোধী সব দলগুলিকে একছাতার তলায় নিয়ে এসে বিজেপিহীন দেশ গড়া। এটাই আমাদের মূল ইস্যু। আর আছে উন্নয়ন। আজকে বাংলায় যে উন্নয়ন হয়েছে দরিদ্র, মজুর, কৃষক তাদের যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে,সেই জনমূখী প্রোগ্রামগুলো সাধারণ মানুষকে ভীষণভাবে আকৃষ্ট করেছে। ইতিমধ্যেই মহিলাদের জন্য, মাইনোরিটি, কমিউনিটির জন্য যে প্রোগ্রামগুলি নিয়েছে তা সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়েছে। সেই জনপ্রিয়তাকে হাতিয়ার করেই এবারের নির্বাচন।

এবারের প্রচারে আপনার প্রতিদন্দ্বী কে?আপনি তো কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে এসেছেন।আপনি যে কেন্দ্রে দাড়িয়েছেন,সেখানে সিপিএম প্রার্থী বদরুদ্দোজা জিতে আছেন । এবারের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী কী বদরুদ্দোজা নাকী বিজেপি?

প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিস্থিতি এখনও আমাদের সামনে আসেনি। আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা তখনই হয় যখন সম্মুখ সমরে একটা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি হয়।কে জিতে আছে সেটা বড় কথা নয়, নির্বাচনটাই মূল।

আপনার পুরানো কংগ্রেস কর্মীরা কী আপনার সাথ দেবে বা কোনো সাহায্য করবে?

আমি ভীষণভাবে আশাবাদী, কারণ দীর্ঘদিন যে দলের সঙ্গে ছিলাম,সেই দলের মানুষ আমাকে চেনে,জানে,আমার আচরণ, ভালোবাসা তারা ভীষণভাবে পেয়েছে। সুতরাং আমি আশাবাদী যে মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টি একটা ভোটও পাবেনা।

অধীর রঞ্জন চৌধুরী কী আপনার জন্য কোনো ফ্যাক্টর হতে পারে?

ফ্যাক্টর বলতে অধীর বাবুকে তো আমরাই তৈরি করেছি। ওনার হাত ধরে আমরা আসিনি বরং আমার হাত ধরেই উনি এসেছেন।

মুর্শিদাবাদের ইউনিভার্সিটি নিয়ে অনেক আন্দোলন হয়েছে, আপনি নিজেও কথা বলেছেন এব্যাপারে। আপনি তৃণমূলে আসার পর এব্যাপারে কী কথা বলবেন এবারের নির্বাচনে?

কোনো প্রয়োজন আছে বলে মনে করিনা,কারণ শিক্ষার ক্ষেত্রে একটা অগ্রবর্তী ভূমিকা ইতিমধ্যেই নেওয়া হচ্ছে। বামফ্রন্ট সরকারের সময় কটা ইউনিভার্সিটি ছিল আর এখন কটা ইউনিভার্সিটি রয়েছে, মানুষ এগুলো জানে ।মুর্শিদাবাদে ইউনিভার্সিটির প্রয়োজন ছিল, সেটা শুরু হচ্ছে।

কতদিন লাগবে ইউনিভার্সিটি হতে?

সময় তো একটা লাগবে। নতুন করে কাজ শুরু হয়েছে। এই মূহুর্তে ইউনিভার্সিটির পঠনপাঠন শুরু হয়েছে তিন কলেজে। একটা কলেজ, একদিনে তো তৈরি হবেনা, সেটারও কাজ শুরু হয়েছে। অনেক বিভাগ চালু হয়েছে, ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। মেডিকেল কলেজে ডাক্তারী পড়ানোও চলছে। সবই হচ্ছে।

আপনার কেন্দ্রের কী কী মূল সমস্যা আইডেন্টিফাই করেছেন?

মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রের সমস্যা বলতে গেলে বেশ কিছু এলাকায় বর্ডার আছে। একটা সমস্যা আছে।এটা মাইনোরিটি ভুক্ত জেলা,এখানের বেশিরভাগ মানুষ বাইরে কাজে যায়। এগুলো একটা সমস্যা আছে। বেকারত্ব একটা সমস্যা আছে। মেডিকেল কলেজ থাকলেও চিকিৎসা ক্ষেত্রে সমস্যা। এগুলো ডেভলপ করতে হবে।

জেতার ব্যাপারে কতটা আশাবাদী?

আশাবাদী বলতে জীবনে একবারও হারিনি,পঞ্চায়েত সমিতি চালিয়েছি,তারপর নির্দল প্রার্থী হিসেবেও দাড়িয়েছি।