ফিরোজ আহমেদ, টিডিএন বাংলা, বারুইপুর : রাতের ক্যানিং লোকালে কাঁচের বোতল ছুঁড়ে তরুণীর উপরে আক্রমণের ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবে রেলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দিয়েছে। যাত্রীদের অভিযোগ,শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার ক্যানিং লাইনের মহিলা কামরার নিরাপত্তা ক্রমেই তলানিতে ঠেকতে চলেছে। মহিলা কামরায় মোবাইল হাতানোর ঘটনা নিত্যকার। এখন প্রায়ই চলন্ত ট্রেনের মহিলা কামরা লক্ষ্যে করে বাইরে থেকেও হামলা শুরু হয়েছে। কখনও সেই হামলায় উড়ে আসছে বড় বড় পাথর। আবার কখনও উড়ে আসছে কাচের বোতল। কখনও আহত হচ্ছেন যুবতী রেল যাত্রী। আবার কখনও আহত হচ্ছেন প্রৌঢ়া রেল যাত্রী। কারুর হাতে আঘাত লাগছে তো, কারুর কপালে সেলাই পড়ছে। যদিও আখছাড় এমন ঘটনার কথা শুনে রেল পুলিস অভ্যস্থ হয়ে গেছে। এমন ঘটনার অভিযোগ শোনার পর দু একদিন নড়াচড়ে করে বসলেও কয়েকদিন পর থেকে আবার একই অবস্থা তাদের। কিন্তু  রাতের ক্যানিং লোকালের মহিলা কামরার এই ঘটনায় যাত্রীরা এক প্রকার আতঙ্কিত। তাই অনেক নিত্যযাত্রী মহিলারাই রাতে ওই কামরায় উঠতে চান না। আর যারা অনিয়মিত যাতায়াত করেন, তাঁরা ওই কামরায় উঠে মাঝে মধ্যেই হামলার শিকার হচ্ছেন। এমনই হামলার শিকার হয়েছেন ক্যানিং থেকে কলকাতার দিকে আসা এক মহিলা। তিনি সোনারপুর জি আর পি থানায় সোমবার রাতে অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, তিনি সন্ধার পর ক্যানিং থেকে শিয়ালদহগামী আপ ক্যানিং লোকালের মহিলা কামরায় উঠেছিলন। জানলার ধারেই বসেছিলেন। ঘুটিয়ারিশরিফ স্টেশন থেকে ট্রেন ছেড়ে বের হতেই লাইনের ধার থেকে চলন্ত ট্রেনর মহিলা কামরা লক্ষ্য করে কাচের বোতল উড়ে আসে। কাচের বোতলের আঘাতে তাঁর হাত ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত লাগে। ঘটনায় ওই যুবতী রীতিমত আতঙ্কিত। তিনি রাতেই সোনারপুর জি আর পি থানায় অভিযোগ করেন। আর এখানেই প্রশ্ন উঠেছে রেল পুলিসের তৎপরতা নিয়ে। সিভিক ভলেন্টিয়ার ও পর্যাপ্ত রেল পুলিস কর্মী থাকতেও রাতের মহিলা কামরা কেন অরক্ষিত হয়ে উঠেছে মহিলা যাত্রীদের কাছে। ওই শাখার রেল যাত্রীদের অভিযোগ, রাত হলেই বিদ্যাধরপুর থেকে তালদি পর্যন্ত বিভিন্ন স্টেশনের রেল লাইনের ধারে চলে মদের আসর। কোন কোন জায়গায় রেল লাইনের ধারেই চোলাই মদের ঠেকও রয়েছে। আর সেখান থেকেই মদ্যপরা চলন্ত ট্রেনর মহিলা কামরাকে লক্ষ্য করে পাথর ও বোতল ছুঁড়ে হামলা চালাচ্ছে। রেল পুলিস সব জেনেশুনেও দর্শকের ভূমিকায় রয়েছে বলেও অভিযোগ রেল যাত্রীদের।